স্থানীয় সংবাদ

সংঘর্ষে রক্তাক্ত কুয়েট

# রণক্ষেত্রে আহত অর্ধশত, ১০ জন হাসপাতালে #
# বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় ক্ষোভ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ছাত্ররাজনীতির পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে বিরোধ থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (কুয়েট)। বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সাথে ছাত্রদলের কর্মীদের সংঘাতে বহিরাগতরা যোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে কুয়েটের অর্ধ শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছে বলে দাবি সাধারণ ছাত্রদের। এদের মধ্য থেকে গুরুতর আহত ১০ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সংঘাতের শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।
কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অতীতেএই ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের গুন্ডামি, নোংরামি ও সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমনকি তাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনেএকজন শিক্ষক পর্যন্ত মারা যান। বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল এখানে আর ছাত্র রাজনীতি ফিরবে না। কিন্ত সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সোমবার ছাত্রদল কুয়েটে সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ শুরু করে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে। পথি মধ্যে ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ সময় কুয়েটের পকেট গেট দিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করে। তারা ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামালা চালায়। মুহুর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা ক্যাম্পাস। সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে ছাত্রদল কর্মীরা পালিয়ে গেলেও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে কুয়েটের আশে পাশেরএলাকার বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপেএকের পর শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদেরকে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নিয়েি চকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন প্রীতম বিশ^াস, শাফি, নাফিস ফুয়াদ, সৌরভ, তাওহিদুল, ইউসুফ খান সিয়াম, দেবজ্যোতি, মাহাদি হাসান, নিলয় ও মমতাহিন।
কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে দুপুর ১টায় আমরা সমাবেশ ডেকেছিলাম। সেখানে বহিরা গতদের নিয়ে ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, কুয়েটের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জনৈক ইফাজ ছাত্রদলের হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের শুরুতে ছাত্রদল কর্মীরা বলেছিল, বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন পুলিশ প্রশাসন ক্যাম্পাসে আসবেনা। তোদেরকে রক্ষা করবে কে? এই বলে তারা হামলা শুরু করে। এদিকে সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ সময় পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্য ও এপিবিএন, বিজিবি ও নৌকন্টিনজেন্ট সদস্যরা কুয়েটে আসেন। এ সময় ছাত্ররা কুয়েটের মেইন গেট আটকে দিয়ে নানা ধরনের শ্লোগান দিতে থাকে। তারা আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। দুপুর ১টায় সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ চার ঘন্টা পর বিকেল ৫টায় কেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনা স্থলে এলো এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
খুলনা মেট্রোপলিটনপুলিশেরউপ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, পরিস্থিতি অতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমার কুয়েটের ভিসিসহ সব পক্ষের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয়দের সাথেও কথা হয়েছে। এঁটা আর বড় রুপ নিতে না পারে সেই চেষ্টা করছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button