দীর্ঘ জনদুর্ভোগের পর রূপসা ঘাটে বসতে যাচ্ছে নতুন পল্টুন ও গ্যাং ওয়ে

রূপসা প্রতিনিধি : অবশেষে প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা দেন দরবার শেষে বিআইডব্লিউটিএ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রূপসা ঘাটের দুই পারে পল্টুন স্থাপনের আশ্বাস দিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন চলাচলত ৬০ থেকে ৭০ হাজার লোক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন। রূপসা ঘাটের পশ্চিম পাড়ের পল্টুন দুটি মরিচা পড়ে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। গ্যাংয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় সেখানে বালু ভর্তি চটের বস্তা অথবা বেঞ্চ বসিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রী চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।তাতে হয়েছে হিতে বিপরীত, কারন প্রতিনিয়ত এই রুটে চলাচলরত যাত্রী সাধারণ কোনো না কোনোভাবে গ্যাং ওয়েতে তৈরি হওয়া গর্তে পড়ে আহত হওয়ার উদ্বেগ জনক খবর আসে। এবার কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের একমাত্র জনবহুল ঘাট হলো পূর্ব রূপসা ও পশ্চিম রূপসা ফেরিঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ চলাচল করে। সে হিসেবে চলাচলরত জনসাধারণের কাছে এই ঘাটের গুরুত্ব অপরিসীম। অবশ্য রূপসা ঘাটের বিপরীতে পারাপারের জন্য খান জাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু) নির্মিত হলেও এই সেতু দিয়ে জনসাধারণ পারাপার হয় না বললেই চলে। এই সেতু দিয়ে বিভিন্ন পরিবহনে লোকজন পারাপার হয় কিন্তু মানদাতা আমলের পারাপারের অন্যতম মাধ্যম রূপসা ঘাট দিয়ে চলাচলরত লোকজন নৌকায় করে খুলনা শহরের প্রবেশ করে । অবশ্য এই ঘাটের বর্তমান টোল ইজারাদারদের দৌরাত্বে পারাপাররত জনসাধারণের জীবন ওষ্ঠাগত। এই ঘাটের টোল আদায়কারীদের হাতে প্রতিনিয়ত লোকজন নাজাহেল হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর প্রতিবাদ করার কেউ নেই।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা সহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এই ঘাটের পল্টুন সহ গ্যাং ওয়ে নষ্ট হওয়ার একাধিক খবর প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে।যার পরিপ্রেক্ষিতে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু গত ১৩ জানুয়ারি ২৫ তারিখ রাতে রূপসা ঘাটের পল্টুন দু’টি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করে বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে তিনি অনতিবিলম্বে এই ঘাটের পল্টুন দুটি পুনঃ নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন। এ ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে কুম্ভ কর্মের ঘুম ভাঙলো। রূপসা ঘাটের দুপারে স্থাপিত হতে যাচ্ছে নতুন পল্টুন ও গ্যাং ওয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে দুটি পল্টুন ও গ্যাংওয়ে নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আগামী ১ সপ্তাহ কিংবা ১৫ দিনের মধ্যে রুপসা ঘাটের দুই পারে নতুন দুটি পল্টুন ও নতুন দুটি গ্যাংওয়ে স্থাপন করা হবে।
প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এমনকি সারারাত ধরে এই ঘাট এলাকা দিয়ে রূপসা, ফকিরহাট, বাগেরহাট, চিতলমারি, মোল্লারহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, মোড়েলগঞ্জ, রামপাল, মংলা, গোপালগঞ্জ সহ বিভিন্ন রুটের লোকাল যাত্রীরা এই ঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এত বেশি জনসাধারণ কোন এলাকার ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন না এটি অত্র অঞ্চলের ঘুম যেসবথেকে জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাট এলাকায় হিসেবে পরিচিত। শুধু আশ্বাসের বাণী নিয়ে চলাচলত লোকজন সন্তুষ্টি থাকতে রাজি নন তারা চান এই অবস্থা উত্তরণের বাস্তব পদক্ষেপ, পাশাপাশি তারা ঘাট ইজারাদারদের নৈরাজ্য ও খামখেয়ালী পোনা বন্ধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



