বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী ইশতেহার

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব আলী মিলানয়তনে প্রকাশক ও বিক্রেতা ঐক্য পরিষদ কমিটির নেতৃবৃন্দরা এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় তারা বলেন, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি সারাদেশে প্রায় ২৬ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক সংগঠন। সংগঠনটি দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও জ্ঞানচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ সমিতি বুদ্ধিবৃত্তিক ও মননশীল জাতি গঠনে অবদান রেখে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সকলের সহযোগিতায় আমাদের এই সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং দেশের শিক্ষা ও প্রকাশনা খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। পুস্তক ব্যবসা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণে আমাদের অঙ্গীকার সুদৃঢ়। আমরা আমাদের ব্যবসা উন্নয়ন, নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নি¤েœ পুস্তক ব্যবসায় উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ করা হলো। প্রকাশনাকে শিল্প ঘোষণায় ভূমিকা: আপনারা লক্ষ্য করেছেন, পহেলা ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি বক্তব্যে আমি প্রকাশনা শিল্পের সুরক্ষায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের উপস্থিতিতে প্রকাশনাকে শিল্প ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। আমাদের এ দাবি ন্যায্য। সুতরাং প্রকাশনাকে শিল্প ঘোষণায় আমরা সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই।এছাড়া নীতিমালা সংগঠনের নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সদস্যদের একটি অন্যতম দাবি। নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসা না করলে ব্যবসায়ীরা কখনো লাভবান হতে পারে না। তাই বই ব্যবসায়ে সমৃদ্ধি আনার লক্ষ্যে আমরা সঠিক এবং নিরপেক্ষভাবে নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করব। বিক্রেতাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা নীতিমালায় কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনব, যাতে বই বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ব্যবসায়ীরা ন্যায্য সুবিধা পায়। ট্রাস্ট: সমিতির সদস্যদের স্বার্থে একটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন আমাদের লক্ষ্য। কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বই ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা হবে। ডোনেশন প্রথা বন্ধ: বর্তমানে বই ব্যবসায় ডোনেশন একটি মরণ ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর ফলে প্রকাশকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে এর কুফল ভোগ অনৈতিক ডোনেশন প্রথা বন্ধ করতে ভূমিকা রাখবো। করতে হয়। আমরা নির্বাচিত হলে আপনাদের সহযোগিতায় পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় নীতিমালা: পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যাতে খুচরা ব্যবসায়ীরা সঠিক দামে বই সংগ্রহ করতে পারেন। খুচরা ব্যবসায়ী এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হবে। অনলাইন বিপণন সংক্রান্ত নীতিমালা। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন বিপণন ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে। বই ব্যবসায়েও-এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমরা অনলাইনে বই বিক্রির জন্য একটি স্বচ্ছ এবং কার্যকর নীতিমালা তৈরি। নকল প্রতিরোধ কার্যক্রম। নকল বই আমাদের ব্যবসায়ে একটি অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নকল বইয়ের কারণে প্রকাশক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি বিক্রেতাও এ ক্ষতি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অবাধে নকল বই বিক্রয়ের ফলে সমিতির নীতিমালা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সুতরাং নকল প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে লেখক এবং প্রকাশকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।প্রকৃত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিতকরণ: বই ব্যবসায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আবির্ভাবের কারণে জেলা-উপজেলায় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মুহূর্তে আমরা মনে করি যাচাই-বাছাই করে সমিতির নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি করা প্রয়োজন। সুতরাং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সদস্য কার্ড বন্ধে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। স্কুল ও কোচিং কেন্দ্রিক বই সরবরাহ বন্ধ করা: সকল ধরনের বইয়ের বিক্রনা সঠিকভাবে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে হতে হবে, যাতে সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্কুলে এবং কোচিং-এ বই সরবরাহের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বন্ধ করা হবে। কেজি বই নীতিমালা: প্রাথমিক শিক্ষার জন্য কেজি বইয়ের মান উন্নয়নে কেজি প্রকাশকদের পরামর্শ প্রদান করা হবে এবং কেজি বইয়ের নীতিমালা তৈরিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশ-বিদেশে বইমেলা: দেশে এবং বিদেশে বইমেলার আয়োজন বৃদ্ধি করা হবে, যাতে বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বইমেলার মাধ্যমে লেখক ও প্রকাশকদের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে। সৃজনশীল বই প্রসারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ: সৃজনশীল বইয়ের প্রসারে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করা হবে, যাতে বাংলা সাহিত্য এবং শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হয়। শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নে সহযোগিতা শিক্ষা কারিকুলামের জন্য গঠিত এনসিটিবির কমিটিতে বাপুসকে সম্পৃক্ত করা এবং বইয়ের কনটেন্ট তৈরিতে ভূমিকা রাখতে আমরা কার্যকর অবদান রাখতে চাই। কালাকানুন বাতিলে পদক্ষেপ: ১৯৮০ সালের কালাকানুন ও পরবর্তী সময়ের শিক্ষা আইন সহ সরকারের বিভিন্ন আইন যা বই ব্যবসায়ের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা বাতিলের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসমস্ত আইনের মাধ্যমে যাতে বই ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করা হয় সে ব্যাপারে আমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করব। প্রযুক্তির ব্যবহার: বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সমিতির হিসাব-নিকাশ সহ সকল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই পদক্ষেপগুলো বই ব্যবসায় শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সৃজনশীলতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের দেশকে আরও উন্নত এবং সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো।



