স্থানীয় সংবাদ

তৎকালীন সরকারের ভিক্ষুক মুক্ত যশোরে কর্মসূচী বাস্তবায়নে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা পানিতে গেছে

# আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যশোরে আশঙ্কাজনকহারে ভিক্ষুকদের আনা গোনা বৃদ্ধি #

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যশোরে ভিক্ষুকদের আনা গোনা আংশকা জনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৎকালীন সরকারের আমলে ভিক্ষুক মুক্ত যশোরে যে কর্মসূচী বাস্তবায়নে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল তা পানিতে গেছে। এমন মন্তব্য করেছেন যশোরের বিভিন্ন পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। বিভিন্ন সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,যশোর শহরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ভিক্ষুকদের বিচারণ চোখের পড়ার মতো।শহরের বিভিন্ন বিপনী মার্কেট,রাস্তাঘাট,ছোটবড় বাজার,ফুটপাত,কাঁচা বাজার,রেলষ্টেশন,মসজিদের আশপাশ,বাড়ি মহল্লায়, বাসস্ট্যান্ড ছোটবড় মার্কেট,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,বিভিন্ন সড়কের আশপাশে ভিক্ষুকদের আনা গোনা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ঈদে যশোর শহরের বড় বাজারের এইচএম এম রোডস্থ থেকে শুরু করেছে বাজারের যে কয়টি সড়ক রয়েছে প্রতি সড়কের মাঝখানে ও বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গুলোতে যেখানে ক্রেতাদের ভীড় সেখানে ভিক্ষুকেরা তাদের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাহায্যর প্রার্থনা জানাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভিক্ষা পেশাকে বেছে নিয়েছে এক শ্রেনীর দারিদ্রতম পরিবার। পরিবারের কেউ ঈদে আর বাড়িতে থাকছেনা। তারা জেলা ছেড়ে অন্য জেলায় অবস্থান নিয়ে ঈদুল ফিতরকে লক্ষ্য করে ভিক্ষা পেশাকে রীতিমতো ব্যবসায় রুপান্তরিত করেছে। যশোর বড় বাজারে গত দুই সপ্তাহে কমপক্ষে বিভিন্ন বয়সে কমপক্ষে ৩ হাজারের অধিক নতুন ভিক্ষুকের আনা গোনা দেখা দিয়েছে। তারা সকাল থেকে তাদের ভিক্ষা পেশার ঝুলি নিয়ে একই পরিবারের সবাই গ্রুপ করে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থান নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখা গেছে। হাত পাতলেই অর্থ মেলে এই টার্গেট করে যার বয়স ৬ অতিক্রম করেছে তাকেও এই পেশায় নামিয়ে দিয়েছে তা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের বড় বাজারে এমনও ভিক্ষুকের সন্ধান পাওয়া গেছে যিনি তার ৩বছর থেকে ৭ বছরের মধ্যে তিন শিশুকে কাউকে কোলে ও বাকীদের কাছে রেখে হাতে ভিক্ষা পেতে পাত্র দিয়ে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। এই পেশার প্রধান লক্ষ্য ময়লা ও নোংরা পোশাক পরে ঈদে কেনা করতে আসা মানুষের কাছে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভিক্ষা চাওয়া। মূলত যারা ভিক্ষুক তাদেরকে হার মানিয়ে যশোর জেলার বাইরে থেকে আসা কয়েক হাজার নারী পুরুষ ও তাদের শিশু সন্তানেরা ঈদকে টার্গেট করে ভিক্ষা পেশায় নেমে পড়েছেন। শুক্রবার দুপুরে যশোর কোতয়ালি থানায় যেয়ে দেখা গেছে থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত কাজী বাবুল হোসেন অসহায় ও দারিদ্র বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষদের নামের তালিকা অনুযায়ী ঈদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদের উপহারের মনোনীত তালিকা অনুযায়ী স্লিপ বিতারণ করছেন। এছাড়া, শুক্রবার ২৮ মার্চ সকালে প্রেকক্লাব যশোর মিলনায়তনে যশোরের কৃতিসন্তান,সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক কাজী আনিসুজ্জামান আরজুর উদ্যোগে দিনমজুর ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ এবং কর্মসংস্থানের জন্য ভ্যান প্রদান করা হয়েছে। প্রতিদিন যশোরের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ উপহারের আয়োজনে প্রায় কয়েক হাজার অসহায়,দিন মজুর মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ঘটা করে যশোরকে ভিক্ষুক মুক্ত করার কর্মসূচী ঘোষনা করে মোটা দাগে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। সে সময় প্রকৃত ভিক্ষুকদের সাবলম্বি করা হয়নি। প্রকৃত ভিক্ষুকদের সরকারী অর্থ না দিয়ে যারা ভিক্ষুক নয় তাদেরকে সরকারী অর্থ দিয়ে যশোরকে ভিক্ষুক মুক্ত করার ঘোষনা করা হয়েছে। সে সময় যেদিন যশোরকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষনা করে কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। সেদিন শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ভিক্ষুকেরা তাদের সাহায্যের হাত অব্যাহত রেখেছে। সেই সময় পত্র পত্রিকায় এধরনের অনেক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাত পাতলেই অর্থ। পুরোদিন শহরের বিভিন্ন বিভিন্ন সড়ক বেছে নিয়ে ঘোরাঘুরি করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাকুতি মিনতি করলে ৭শ’ থেকে হাজার ১২শ’ টাকা অনায়াসে মিলে। যার কারনে পরিশ্রম ছাড়া অর্থ পাওয়ার আশায় ভিক্ষা পেশাকে বেছে নিয়েছে শত শত পরিবার। তবে নিজ জেলায় নয়। এক জেলার পরিবার অন্য জেলায় ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে তাদের ব্যবসা অব্যাহত রাখবে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button