আশাশুনিতে অতিরিক্ত মদ্যপানে নিহততের সংখ্যা ২ : হাসপাতালে ভর্তি ৯

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ঃ
বন্ধুরা মিলে ঈদুল ফিতরের দিবাগত রাতে অতিমাত্রায় ম*দ্যপানে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা কাদাকাটি ইউনিয়নের মিত্র তেঁতুলিয়ার সোহরাব গাজীর পুত্র নাজমুল গাজীর (৩৫) ও শাহনগর গ্রামে মৃত গফফার খাঁ’র পুত্র টিটু’র (৪০) মৃত্যু হয়েছে।
বিষাক্ত এই মদ খেয়ে আরো ১৮ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে । এ সময় অসুস্থ ১৮ জনের মধ্যে ৯ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ আশপাশের বিভিন্ন হসপিটালে ভর্তি করা হয় । মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আশাশুনি উপজেলার মানিকখালি ব্রীজের পাশে ও বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তারা দুই জন মারা যান। অসুস্থদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কা -জনক অবস্থায় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও অন্য চারজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
দু-জনের মৃত্যুর সংবাদের পরে বাদবাকি আরো নয় জন অসুস্থ অবস্থায় পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়।তারা হলেন মিত্র তেঁতুলিয়া গ্রামের আবু হাসানের ছেলে বিএনপি কর্মী হৃদয় হোসেন, ব্রাহ্মণ তেঁতুৃলিয়া গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে মারুফ হোসেন, একই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে ফারুক হোসেন, তেঁতুৃলিয়া গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন ও মোকামখালি গ্রামের কুদ্দুস গাজীর ছেলে কাদাকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদরের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন। অন্য পাঁচজনের পরিচয় জানা যায়নি।
শাহনগর গ্রামের জাফর খাঁ’র ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর তার ভাই কাদাকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাকির হোসেন টিটু, মোকামখালি গ্রামের কুদ্দুস গাজীর ছেলে কাদাকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, তেঁতুলিয়া গ্রামের নাজমুল হোসেনসহ ১১ জন বিএনপি নেতা কর্মী ও সমর্থক ঈদের আনন্দ করতে সোমবার সন্ধ্যায় মোকামখালি সুইজস গেটের পাশে শ্মশান এলাকায় যেয়ে মদ জাতীয় কোমল পানীয় পান করেন। কিছুক্ষণ পর তারা সকলে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনদের পক্ষ থেকে নিজ বাড়িতে বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাই জাকির হোসেনকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তারই ভাই গ্রাম ডাক্তার জাহাঙ্গীর হোসেন টুকু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাকির হোসেন টিটুকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশাশুনির মানিকখালি ব্রীজের পাশে মারা যায়। একইভাবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় নাজমুলকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই নাজমুলের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন,ফারুক হোসেন, মারুফ হোসেন, ইমরান ও হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কা জনক। আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন টুকু জানান, তার ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাকির হোসেন টিটু ও নাজমুল স্পীড জাতীয় বিষাক্ত পানীয়বা মদ খেয়ে মারা গেছেন এটা নিশ্চিত ।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন জানান, বিষাক্ত মদ পানে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তবে ময়না তদন্তের জন্য জাকির হোসেন টিটুর লাশ বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নাজমুলের লাশ ও মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।এই খবর লেখা পর্যন্ত বাদবাকি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের অবস্থা এখনো জানা যায়নি।



