ঈদ শেষে খুলনা ছাড়ছেন কর্মজীবিরা

# খুলনার বাস-ট্রেন স্টেশনে যাত্রীদের ভীড়, টিকিট সংকট #
মো. আশিকুর রহমান : যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সোমবার (৩১ মার্চ) উৎসব মুখর পরিবেশে সারাদেশের মতো খুলনাও পালিত হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনার পর নাড়ীর টানে, বাড়ীর পানে রাজধানী ছেড়ে দক্ষিনাঞ্চলের কর্মজীবি মানুষ খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে এসেছে তাদের পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করতে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দেখতে দেখতে ঈদের চতুর্থ দিন গড়ালো। এবার পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ শেষে ফের কর্মস্থলে দৌড়-ঝাপের পালা। ছুটতে হবে আবারো কর্মে, শুরু হবে যান্ত্রিক জীবন। ওই ধারাবাহিকতায় দক্ষিনাঞ্চলের কর্মজীবি মানুষের ঈদ পালন শেষে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরগুলোতে ফেরার।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) খুলনা নগরীর রেলওয়ে স্টেশন, সোনাডাঙ্গা খুলনা আর্ন্তজেলা বাস টার্মিনাল, রয়েল মোড়, শিববাড়ী মোড়সহ স্থানীয় এলাকা নতুনরাস্তা, দৌলতপুর, খালিশপুর এলাকার বাস কাউন্টার গুলোতেও যাত্রীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) হতেই খুলনায় ঈদ করতে মানুষ খুলনা ছাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই ফিরতে টিকিট কেটে রাখলেও বর্তমানে রাজধানী মুখি হতে গেলে বাস ও ট্রেনের টিকিট পেতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে কয়েকজন যাত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। একাধিক বাসকাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের দিনের মতো এবার ঈদের টিকিটের কোনো ঘাটতি নাই। যথেষ্ট পরিমানে টিকিট রয়েছে। যাত্রীরা চাওয়া মাত্রই টিকিট পাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর অনেক যাত্রীই বাসের বিকল্প হিসাবে বিকল্প যানবাহনে এসেছে।
রাজধানী মুখি যাত্রী আবুল বাশার জানান, গতকাল বিকাল সাড়ে ৪ টার বাসে খুলনা জিরো পয়েন্ট হতে টুঙ্গিপাড়া বাসে উঠেছি। গুলিস্থান নামবো। পরিবার নিয়ে ঈদ করতে খুলনার গ্রামের বাড়ীতে এসেছি। প্রতি বছরই এসে থাকি। আগে থেকে ফিরতি টিকিট কেটে ছিলাম, কারন ফিরতি টিকিট না কেটে রাখলে ফেরার সময় টিকিটের সংকটে ভুগতে হয়। আব্দুল্লাহ নামের এক যাত্রী জানান, ঢাকা মিরপুর থাকি চাকুরীর সুবাদে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া খুলনাতে আসা হয় না। তবে প্রতি বছর দুই ঈদে বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে ঈদ কাটানো জন্য বাড়ীতে আসি। প্রতি বছরই বাস-ট্রেন টিকিটের সংকট থাকে। ওই কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই ফিরতি টিকিট কেটে রেখে ছিলাম। গতকাল বিকালে খুলনা রয়েল মোড় থেকে সোহাগ পরিবহনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ঈদ শেষ, এবার কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। তবে ঈদ শেষে পরিবার ছেড়ে রাজধানীতে যাওয়ার খুব খারাপ লাগে। ঢাকা উত্তরা হতে খুলনা ঈদ করতে আসা যাত্রী রুপা জানান, অনেক বছর পর বান্ধবীর সাথে ঈদ করার জন্য খুলনায় আসছি। রাজধানীতে থাকতে থাকতে বোরিং হয়ে গেছি। তাই এলাম ঈদ পাথরের শহর ছেড়ে খুলনায় বান্ধবীর সাথে ঈদ করতে। গতকাল খুলনায় ঈদ করে ঢাকায় ফিরলাম, মনে হলো অনেক বছর পর মনের প্রশান্তি পেলাম। খুলনা আসলেই একটি শান্তির শহর। সোহাগ পরিবহন দৌলতপুর কাউন্টার ম্যানেজার আঃ সালাম জানান, প্রতি বছরই ঈদের ২/৩ দিন পর থেকে রাজধানী মুখি যাত্রীদের চাপ বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল থেকে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। টিকিটের সংকট রয়েছে। যে সকল যাত্রী আগে থেকে ফিরতি টিকিট কেটে রেখেছেন তারা আরামে রাজধানীতে পৌছে যাচ্ছেন। অন্য সময়ের মতো টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে। নতুনরাস্তা টুঙ্গিপাড়া কাউন্টারের কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান (আপেল) জানান, এবার কিছুটা আসনের কিছুুুুুুটা সংকট আছে। যদিও প্রতিটি কোর্চের শেষ দিকের কিছু আসন ফাকা রয়েছে, ওই আসনে যাত্রী যেতে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। গতকাল থেকে খুলনা হতে রাজধানী মুখি যাত্রীদের চাপ শুরু হয়েছে। এমন চাপ দু’চার দিন থাকবে। প্রতি ঈদ এমন অবস্থা হয়ে থাকে। আমরা অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিক ভাড়া নিচ্ছি।
খুলনা স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন জানান, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিটের যথেষ্ট পরিমানে চাহিদা থাকে। ঈদের সময় এই চাহিদা আরো বাড়ে। ঈদের বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য ঢাকা টু খুলনা ও খুলনা টু ঢাকাগামী জাহানাবাদ ও রুপসী বাংলা এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। আমাদের ১০০% অনলাইন টিকিট। গত ২৬ মার্চ হতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঈদের টিকিটের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনের বাইরে টিকিট ক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীরা ঘরে বসেই ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন, কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে। ইতোমধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলে ঈদ করতে আসা কর্মজীবি মানুষেরা রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে, যে কারণে খুলনার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভীড় বাড়তে শুরু করেছে।



