ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও ব্যাহত হয়নি দিঘলিয়ার গর্ভবতী মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রদান কার্যক্রম

# ৪ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫১ জন গর্ভকালীন সেবা ও ১৩ জনকে প্রসব উত্তর সেবা প্রদান
# ১৮ জন শিশুকে সাধারণ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ ২ টি মা সমাবেশও করা হয়েছে #
স্টাফ রিপোর্টার : এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন সরকারি, আর্থিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যক্রম ছুটির আওতায় থাকলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে সেবা ব্যাহত হয়নি খুলনা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন উপজেলা দিঘলিয়ার মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ঈদের এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও কাংক্ষিত সেবা পেয়ে খুশি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওই অঞ্চলের সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ (শুক্রবার) থেকে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়, যা শেষ হবে ৪ এপ্রিল (শুক্রবার) পর্যন্ত। এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যে যেন কোনো গর্ভবতী মা এবং শিশুরা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে বেগ পেতে না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই নির্দেশনার আলোকে ঈদের এই লম্বা ছুটিতে দিঘলিয়াতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনস্থ দিঘলিয়া, বারাকপুর, আড়ংঘাটা ও গাজীরহাটের চারটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ সেবা প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ছুটিকালীন সময়ে শুক্রবার থেকে বৃহস্পতিবার সাত দিন দিঘলিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীগণ নিরলসভাবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন সেবা প্রদান চলমান রেখেছেন। চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম হিসাবে ২২ জন গর্ভবতী মাকে গর্ভকালীন সেবা ও পরামর্শ প্রদান, ৪ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংরক্ষিত গর্ভবতী তালিকা থেকে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে ২৯ জন গর্ভবতী মাকে গর্ভবতী সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়, ১৩ জন মাকে প্রসব উত্তর সেবা প্রদান, ১৮ জন শিশুকে সাধারণ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, ২ টি মা সমাবেশসহ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ভিত্তিক সেবা প্রদান করা হয়।
দিঘলিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকট থেকে আসা সেবা গ্রহীতা গর্ভবতী মা আরোশী আক্তার (চাঁদনি) জানান, আমি ৬ মাসের গর্ভবতী মা। ভালো লেগেছে ঈদের দীর্ঘ ছুটি মধ্যেও আমার কাংক্ষিত সেবা পেয়েছি। সেবা পেতে বেগ পেতে হয়নি। যারা উপজেলাতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছেন তারা অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে সেবা প্রদান করেছেন। আমি কাংক্ষিত সেবা পেয়ে খুশি। দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও গর্ভবতী মা চম্পা বেগম জানান, আমি ৬ মাসের গর্ভবতী মা। গত মঙ্গলবার ঈদের ছুটি থাকা সত্বেও স্বাস্থ্য সেবা নিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যায়। সেখানে দায়িত্বরত পরিদর্শীকা দায়িত্বের সাথে সেবা প্রদান ও পরার্মশ দিয়েছেন, এমন সেবা পেয়ে আমি খুশি। বিগত দিনে বেশ কয়েকবার সেবা নিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছি, সেবার মান ভালো।
দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা হামিদা খাতুন জানান, নিয়মিত সেবার মতোই ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও গর্ভবর্তী মায়ের গর্ভকালীন সেবা কার্যক্রম প্রদান করেছি। এই ছুটির মধ্যে কিছু গর্ভবর্তী মা সরাসরি অফিসে এসে সেবা নিয়েছেন। এছাড়া বাকিদের মোবাইল ফোনের মধ্যেও পরার্মশ ও খোজ খবর নিয়েছি।
দিঘলিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার বিশ^াস জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে যেন গুরুত্বপূর্ন এই উপজেলাটির গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে উপজেলাসহ প্রতিটি কেন্দ্রে পরিদর্শীকারা যেন দায়িত্বের সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন তারও বিশেষ তদরকি অব্যহত রাখা হয়েছে। সেবা কার্যক্রম হিসাবে গর্ভবর্তী মায়ের গর্ভকালীন সেবা, প্রসব উত্তর সেবা, শিশুদের সাধারন স্বাস্থ্য সেবাসহ দুটি মা সমাবেশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি গর্ভবর্তী মায়ের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে খোঁজ খবর নেয়া ও পরার্মশ প্রদান করা হয়েছে।



