যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দালালের ছড়াছড়ি ও স্বেচ্ছাসেবকের নামে এরা কারা কি ?

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ দালালের ছড়াছড়ি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে কতিপয় দালালেরা বিভিন্ন কৌশল নিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর সুযোগ বুঝে রোগী ও রোগীর দর্শনার্থীকে ভাগিয়ে বাইরে তাদের চুক্তি বদ্ধ বেসরকারি ক্লিনিক , হাসপাতাল,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের দোকানে নিয়ে যায়। কোথাও ৬০% কমিশনের ভিত্তিতে প্রতিদিন রোগীদের খাত থেকে নূন্যতম ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা উপার্জন করে বাড়িতে ফিরছে। এই দৃশ্য প্রতিনিয়ত হাসপাতাল কেন্দ্রীক প্রাঙ্গনে দেখা মেলে। এছাড়া,স্বেচ্ছাসেবক নামে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও বহিঃবিভাগের চেম্বারে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পকেট হতে মাথা পিছু ৭শ’ থেকে কখনও ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফিরছে। এরা প্রকৃত পক্ষে হাসপাতালের কর্মচারী না হয়েও নিজেদের হাসপাতালের কর্মচারী দাবি করে রোগীদের নাজেহালসহ বিভিন্নভাবে হুমকী ধামকী দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রগুলো বলেছেন,হাসপাতাল কেন্দ্রীক দালালের সাথে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ বক্সের এক সদস্যর রয়েছে বিকাশের মাধ্যমে চুক্তি। যারা উক্ত পুলিশ সদস্যদের ম্যানেজ করতে পারেন তারা অবাধে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে রোগী ভাগানোর কাজ অবাধে করতে পারেন। যারা উক্ত পুলিশ সদস্যদের সাথে সখ্যতা না রাখেন তাকে হাসপাতাল থেকে তাড়া করে বের করে দেয়া হয় এমন খবর অনেক দালালের মধ্যে। সূত্রগুলো দাবি করেছেন, প্রতিদিন সকাল ৮ টার আগ থেকে দুুপুর ২ টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বহিরাগত দালালেরা মাথা পিছু কখনও ৬শ’ আবার কখনও ২ হাজার টাকা কমিশন বাবদ উপার্জন করে অটো রিকশা বাড়িতে ফিরতে দেখা যায়। সূত্রগুলো আরো বলেছেন, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত পুলিশ বক্স স্থাপন করা হলেও এখানে দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন পুলিশ সদস্য বহিরাগত দালালদের সাথে মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশে লেনদেন। করেন। উক্ত পুলিশ কনস্টেবলের মোবাইল নম্বার বিকাশ করার কারনে দালালেরা বিকাশে লেনদেনের কাজ সেরে ফেলেন। যার ফলে উক্ত দালালের টাকা বিকাশে পাওয়ার পর উক্ত পুলিশ কনস্টেবল দালালকে না দেখার ভান করে হাতে পুলিশের ওয়্যারলেস সেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। একজন পুলিশ কনস্টেবলকে ম্যানেজ করতে পারলে দালালেরা রোগী ও রোগীর দর্শনার্থীকে কৌশলে বাগিয়ে নিয়ে তাদের চুক্তিবদ্ধ ক্লিনিক ,হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তুললে মোটা অংকের কমিশন পেয়ে থাকেন। যে কমিশনের টাকা থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল ভাগ পান। এখানে দায়িত্ব পালন করে অর্থলোভী কনস্টেবল প্রতিমাসে মোটা অংকের উৎকোচ আদায়ের টার্গেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তত্বাবধায়ক হাসপাতালে দালালের ছড়াছড়ি ও স্বেচ্ছাসেবকের নামে রোগীদের পকেট কাটার কারবার হচ্ছে বিষয়টি জানেন কি?



