স্থানীয় সংবাদ

ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খুলনা নগরী শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনে বক্তারা

# বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময় #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী খুলনা : সম্ভাবনা, দায়িত্ব এবং করণীয় শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন মঙ্গলবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এ শহরের উন্নয়ন হলে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে। খুলনার বিকাশ আরও আগে থেকেই পরিকল্পিত ভাবে হওয়া দরকার ছিলো। খুলনা শহরের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের প্রেক্ষিতকে বিবেচনায় নিতে হবে।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সেশনে অতিথি বক্তা ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার ও খুলনা উন্নয়ন কর্তপক্ষের পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায়। স্বাগত জানান ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ। এদিকে মঙ্গলবার বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার । প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পুলিশ কমিশনার বলেন, এই শহরের একটি বড় সমস্যা হলো প্লাস্টিকবর্জ্য। পলিথিন ব্যাগ বা প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারের পরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এই চর্চাটি এখন থেকেই শুরু করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা চাইলে বর্জ্যমুক্ত খুলনা বাস্তবে পাওয়া সম্ভব হবে। পরিচ্ছন্ন খুলনা গড়ার ক্ষেত্রে সচেতনতামূলক প্রচেষ্টা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই শুরু হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে উদাসীন হলে চলবে না। এই শহরকে ভালোবাসতে হবে। আমরা বদলালেই শহর বদলে যাবে। সমাজকে মাদক ও কিশোর অপরাধের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। নগরীতে যানচলাচলে নিরাপত্তা বাড়াতে কেএমপির উদ্যোগে সাড়ে পাঁচ হাজার ইজিবাইক চালককে দেড় ঘন্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। খুলনাকে অধিকতর বাসযোগ্য করার সব প্রচেষ্টার সাথে কেএমপি থাকবে। সমাপনী সেশনে অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ হুসাইন শওকত। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সচিব শরীফ আসিফ রহমান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. শিল্পী রায়। উল্লেখ্য, খুলনা শহরের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে-ন্যায্য নগরে উত্তরণ এবং খুলনা নগরে এর তাৎপর্য, নগরে ন্যায্যতা নিশ্চিতে যুব সম্পৃক্ততা, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততায় ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর, সকলের জন্য বাসযোগ্য নগরী, জলবায়ু বিপর্যয় এবং ন্যায্য নগরে উত্তরণ, কর্মসংস্থান: সমস্যা এবং সমাধান, নগরে ন্যায্যতা নিশ্চিতে সকল অংশীজনের সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ খুলনা নগর কেমন দেখতে চাই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, খুলনা ওয়াসা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লানার্স এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বেলা, সিরাক বাংলাদেশ, আরডিআরসি, সিয়াম ও বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button