স্থানীয় সংবাদ

যশোরে ১০লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন : গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে মামলা

যশোর ব্যুরো ঃ গত ৩০ মে বিকালে যৌতুকের ১০লাখ টাকার জন্য নির্যাতনসহ মারপিট করে গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সুমনা (২০)কে হত্যার অভিযোগে আদালতে নির্দেশে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ যশোর আদালতে বাদি মমতাজ এর দায়ের করা অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় বাদি হয়েছেন,গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সুমনার মাতা যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া হামিদপুর গ্রামের মহর আলী মোড়লের মেয়ে মমতাজ। মামলায় আসামী করা হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামের হারেজ এর ছেলে নিহত গৃহবধূর স্বামী হৃদয় হাসান,শ^শুর নেপলার ছেলে হারেজ,হারেজের স্ত্রী শ^াশুড়ী টুকু,যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী এলাকার হারেজ এর মেয়ে গৃহবধূর ননদ সম্পা ও ননদের স্বামী নজরুল ইসলামের ছেলে বিপ্লব।
মামলায় বাদি উল্লেখ করেন, সুমাইয়া আক্তার সুমনার সাতে হৃদয় হাসানের বিগত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম গ্রহন করে। তার নাম জান্নাতুল মাওয়া বয়স (১৩-১৪) মাস। আসামীরা যৌতুক লোভী গত ৩০ মে বিকাল ৪ টা থেকে সাড়ে ৫ টার মধ্যে যে কোন সময় উল্লেখিত আসামীরা সুমাইয়া আক্তার সুমনাকে ১০লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারপিট ও নির্যাতন করে হত্যা করে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করলেও সুমাইয়া আক্তার সুমনা সহ্য করে ঘর সংসার করতো। বিয়ের পর মেয়ের সুখের কথা ভেবে আসবাবপত্র স্বর্ণালংকর নগদ টাকা জামাই হৃদয় হাসানকে সুমাইয়ার পিতা দিয়েছিল। গত ৩০ মে সুমাইয়ার শ^শুর বাড়ি হতে তার পিতার বাড়িতে জানায় তার মেয়ে গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাদি ও তার স্বামীসহ অনেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যেয়ে জামাই হৃদয় হাসানসহ আসামীদের দেখতে পান। সুমাইয়া আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাদি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরবর্তীতে আসামীরা সুমাইয়া আক্তার সুমনা আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে। বাদির এক ছেলেকে ভূল বুঝিয়ে একটি টাইপ করা কাগজে সহি নিয়েছিল। পরে বাদি জানতে পারে ওই কাগজ দিয়ে তারা আত্মহত্যা জনিত কারনে মৃত্যু সংক্রান্ত মামলার ব্যবস্থা করেছে। বাদি অত্যক্ত অসহায় সকলেই শোমে মূহ্যমান ছিলেন। বাদির মেয়ের মৃতদেহ বাদির বাড়িতে গোসল করানোর সময় স্থানীয় নারীরা সুমনার শরীরে আঘাতে চিহ্ন দেখে বাদিকে জানায়। উক্ত তারিখে সবাই মিলে যৌতুকের দাবিতে হত্যা করে বলে বাদি মৃত্যুর কয়েকদিন পর কোতয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। বাদি আাদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে মামলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button