স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে জোরপূর্বক বাউন্ডারী ওয়াল ও স্থাপনা নির্মাণ এবং হুমকীর প্রতিবাদে এক প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর খুলনা পুলিশ লাইন পূর্ব গলিতে একটি জমি দখল করে বাউন্ডারী ওয়াল ও স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবাদুল্লাহ বিন সিদ্দিক নামে এক ভুক্তভোগী প্রবাসী। গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্ত পাঠকালে এবাদুল্লাহ বলেন তিনি প্রবাস জীবনে কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে খুলনা পুলিশ লাইন পূর্ব গলিতে মৃত গিয়াস উদ্দিন হায়দারের কাছ থেকে একটি জমি কেনেন। এরপর জমির বিক্রেতার ছেলে মোহাম্মদ হায়দার তার জমির উপর একটি দেওয়াল তুলে দিয়ে জমির কিয়দংশ দখল করে নেয় এবং বাড়ি নির্মাণের শুরু থেকে বিভিন্ন সময় তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী এবাদুল্লাহ বিন সিদ্দিক বলেন, আমি গত ২০০৪ সালের ২৫ শে মে ১৪৭৩ নাম্বার রেজিস্ট্রি দলিল মূলে খুলনা পুলিশ লাইন পূর্ব গলিস্থ সি এস ১১৩, এস এ ১৩৮ এবং আর এস ২৩৪২ নং খতিয়ান থেকে ০.০৫৯৩ একর বা ৩.৬০ কাঠা জমি প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত নগদ মূল্যে বদর উদ্দিন হায়দারের ছেলে মৃত গিয়াস উদ্দিন হায়দারের কাছ থেকে ক্রয় করে নাম জারি ও সকল প্রকার সরকারি কর ও খাজনাদি অদ্যাবধি যথারীতি প্রদান করে আসছি। জমিটি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের চৌহদ্দি ও হাত নকশা মোতাবেক পূর্ব-পশ্চিমে ৬১ ফুট ও উত্তর-দক্ষিণে ৪২ ফুট ৬ ইঞ্চি পরিমাপ বিশিষ্ট। আমি পরবর্তীতে উক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে এসে দেখি জমি বিক্রেতার ছেলে মোহাম্মদ হায়দার আমার বিদেশে থাকার সুযোগে আমার অজ্ঞাতসারে তার জমির উত্তর পাশে দলিল অনুযায়ী আমার প্রাপ্য জমি ও কেডিএ কর্তৃক প্রদত্ত এনওসির মাপের থেকেও প্রায় ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি ভিতরে ঢুকে দেওয়াল নির্মাণ করে দখলে নিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে আমি নিজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিক্রেতার ছেলেকে দেওয়াল সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও কোন প্রতিকার পাইনি। ফলে কোন প্রতিকার না পেয়ে আমি ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বরাবর বিষয়টি উল্লেখ করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন করি। উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিলর উভয় পক্ষকে নোটিশ করে একজন স্বীকৃত সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ শেষে বিক্রেতার ছেলেকে দেওয়াল সরিয়ে নিতে বলেন, কিন্তু বিক্রেতার ছেলে মোহাম্মদ হায়দার সেই আদেশ উপেক্ষা করে তৎকালীন শেখ বাড়ির লোকজন দিয়ে হুমকি-ধামকি ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। পাশাপাশি সাব জজ আদালতে স্বত্ত্ব প্রচার দেওয়ানী মামলা ২২৭/২০২৩ দায়ের করে। মামলাটি চলাকালে আদালত মোহাম্মদ হায়দারকে আদালত অবমাননার দায়ে ২ বার জরিমানা করেন। পরবর্তীতে চূড়ান্ত শুনানীর দিন মামলার বাদি মোহাম্মদ হায়দার গত ১ জুন মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানায় যেটি আদালত গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, মামলা প্রত্যাহার হওয়ায় পুনরায় কাজ শুরু পূর্বে আমি আমার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দায়ের করি। গত ৩ ২০২৫ কাজ শুরু করলে মোহাম্মদ হায়দার বহিরাগতদের এনে আমার কাজে বাধা দেয়। পুলিশ এসে পরিবেশ শান্ত করে সেইদিন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষকে কাগজপত্র সহকারে থানায় বসতে বলে। সে অনুযায়ী সন্ধ্যায় থানায় বসাবসি হয় এবং দলিল পত্রাদি ও ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিমাপ পর্যালোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বিক্রেতার ছেলেকে সঠিকতা মেনে নিতে অনুরোধ করা হয়। বিক্রেতার ছেলে। তা মানতে রাজি নাহলে প্রশাসন উক্ত দেওয়ালের উপর ১৪৪ ধারা জারি করে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে নোটিশ জারি করেন।
কিন্তু গত ১৪ জুন মোহাম্মদ হায়দার ১৪৪ ধারা অবজ্ঞা করে আমার জমির মধ্যে কেডিএ-র অনুমতিবিহীন অবৈধভাবে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রশাসনকে এ বিষয়টি জানালে তারা এসে কাজ বন্ধ রাখার কথা বলে চলে যান। পরবর্তীতে মোহাম্মদ হায়দার পুনরায় কাজ শুরু করে সে অবৈধভাবে জবরদখলকৃত জমি দখলে রাখার অপচেষ্টা বজায় রাখে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button