স্থানীয় সংবাদ

খুলনা খাদ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি ১

খুলনায় খাদ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৬টি এবং ডিলারদের মাধ্যমে ১৫ টি ওয়ার্ডে ওএমএস কার্যক্রম চলছে
# হাইকোর্টের রিট থাকা সত্ত্বেও ওএমএস কার্যক্রম চালাতে পারছে না ২ ডিলার #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কম মূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিক্রয় বিতরণের উদ্দেশ্যে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ওএমএস এর আওতায় খুলনা মহানগরের ৩১ টি ওয়ার্ডের ৯৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস’র চাল আটা দেয়া হয়।
গত ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী খাদ্য বিভাগ খুলনার ওএমএস ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ওএমএস কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অপরদিকে নতুন ডিলার নিযয়াগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে খুলনা অঞ্চলের ৯৩ জন ডিলারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে ডিলারদের পক্ষে মোঃ খালিদ হোসেন ও ইমান শেখ রিট আবেদনটি করেন। যার নং ১৩৫৭৫/২৪। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ডিলারদের বাতিল স্থগিতাদেশ দেন, যা দেশের সকল ওএমএস ডিলারদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের অফিস আদেশ কে চ্যালেঞ্জ করে ১৫ জন ওএমএস ডিলাররা বাংলাদেশ সুপ্রিম ও হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দাায়ের করেন। যার নম্বর ১৩৯০৯/২৪। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের মাননীয় বিচারপতি মোঃ আকরাম হোসাইন চৌধুরী এবং কেএম রাশিদুজ্জামান রাজা শুনানিয়ান্তে ুেল নিশি জারি করে প্রথমে তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে তিন মাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ এর পাশাপাশি রিটকারি ১৫ জন ওএমএস ডিলারকে পুনরায় পরবর্তী তিন মাস এর জন্য কার্যক্রম চালানোর আদেশ দেন ।
মোঃ খালিদ হোসেন ও ইমান শেখ হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চে একটি রেট দাখিল করার যার স্বারক নং ১৩. ০১.০০০০.০০০.২৩০.৫৭.০০০২.২৪.২৪৬৩, তারিখ ২ জুন ২০২৫। এবং এই রায়ে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুজন ডিলার(মোঃ খালিদ হোসেন ও ইমাম শেখ) ওএমএস চালাতে পারেন। ঠিক একই মর্মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সরকারি কৌশলী (জিপি) জজ কোর্ট খুলনা ড. মোঃ জাকির হোসেন খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কে মতামত জানান।
এদিকে রিট পিটিশনের রায় নিয়ে ১৫ জন ও এম এস ডিলাররা তাদের কার্যক্রম চালালেও অন্য দুইজন ডিলারের পক্ষে হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। এ ব্যাপারে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মহানগরীর ১৬ টি ওয়ার্ডে খাদ্য অধিদপ্তর এর নিজস্ব পরিদর্শকের মাধ্যমে ও বাকি ১৫ টি ওয়ার্ডে ১৫ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে দুজন ডিলার হাইকোর্টের যে রায় নিয়ে এসেছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, জুলাই ১ তারিখ থেকে খাদ্য বিভাগ খুলনার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা মিলে ৩১ ওয়াডেদ স্বল্প মূল্যে চাল ও আটা চোরাই পথে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সুত্র জানায় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর নেতৃত্বে এই অনিয়ম, দূনীদতি চলছে। ইতিপূর্বে খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর বিরুদ্ধে একাধিক দূনীদতি অভিযোগ উঠে এবং তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কোন এক অশুভ শক্তির কারণে তিনি কোন কিছু পাত্তা দেন না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button