টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে খুলনাবাসী

# আগামী দুই-একদিন বৃষ্টির পরিমান কমবে, এর পরে আবারও বাড়বে
# বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষিপাত রের্কড
কামরুল হোসেন মনি ঃ গত কয়েকদিনে খুলনায় টানা বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে খুলনাবাসী। বিশেষ করে বেশিরভাগ সড়ক ও নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। নগরীর সড়ক, ড্রেনেজ, স্যুয়োরেজসহ উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
খুলনা সহকারি আবহাওয়াবীদ (ভারপ্রাপ্ত) মো: মিজানুর রহমান বলেন, (বুধবার ৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৬ জুলাই থেকে ৯ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত তিনদিনে মোট ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। প্রতি তিন ঘন্টা পর পর বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী দুইদিন বৃষ্টির পরিমান কমবে। তবে বৃষ্টিপাত থাকবে। এরপর থেকে আবারও বৃষ্টির পরিমান বেড়ে যাওয়ার সম্ভভনা রয়েছে। নগরী বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী সড়কের পিটিআই থেকে রযয়েল মোড়, কেএমপি সদর দপ্তর, দোলখোলা মোড়, নতুন বাজার, লবণচরা, টুটপাড়া, নতুন রাস্তা মোড়, আবু নাসের হাসপাতাল এলাকা, মুজগুন্নি সড়কের বয়রা পুলিশ লাইন এলাকার সড়কে হাঁটুপানি। যেসব সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে, সেখানে ভোগান্তির পাশাপাশি যানযটও আরও বেড়েছে। নগরীর অধিকাংশই সড়কগুলোতে গর্ত থাকায় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
নিরালা থেকে গল্লামারী হয়ে বিশ^ রোডে যাওয়ার পথে দীর্ঘ যানযট বেশি দেখা গেছে। নগরীতে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। নগরীর শিববাড়ির এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, শিববাড়ি থেকে খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ে রোডে যেতে ইঞ্জিন চালিত রিক্সা ভাড়া গুনতে হয়েছে ৮০ টাকা। যা অন্য সময়ে ৪০ টাকায় হয়ে যেতো। তিনি আরও বলেন, নিরালা থেকে গল্লামারী পর্যন্ত যেতে যানজটের কারণে ৩০ মিনিট সময় লেগেছে। নগরীতে অবৈধভাবে লাইসেসন্সবিহীন ইজিবাইকের চলাচল থাকায় এমন পরিস্থিতি বলে তিনি উল্লেখ করেন। মানুষের চেয়ে ইজিবাইকের সংখ্যা বেশি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
টানা বৃষ্টিতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। রাতভর টানা বৃষ্টির পর সকালেও তা অব্যাহত থাকায় যানবাহন সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ে অফিস বা কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে উচ্চ ভাড়ায় কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে তাদের। ভোগান্তির শেষ নেই স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদেরও। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভিজে পুড়ে আসছেন কেন্দ্রে। এছাড়া স্কুল গুলোতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলায় তাদেরকেও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বেশ কিছু স্কুলে গতকাল ও আজ নির্ধারিত সময় থেকে অন্তত ১০/১৫ মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বর্ষার অজুহাতে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও বেড়ে[ছে।


