যশোরে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে তালবাহনার অভিযোগে মামলা

# ইতালী নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস প্রদান #
যশোর ব্যুরো ঃ ভাল বেতনে ইতালী নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি প্রতারক চক্র একটি পরিবার থেকে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালবাহনা করার এক পর্যায় সকল যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালি থানায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন, যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের গফুর সরকারের মেয়ে মোছাঃ রিনা পারভীন। মামলায় আসামী করেন, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বারইশ গ্রামের কাজী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে কাজী সফিকুর রহমান,মাদারীপুর জেলার সদর থানার ত্রিভাগদী গ্রামের শাহজাহান হালদারের স্ত্রী ও ইউনুস বেপারীর মেয়ে কণিকা আক্তার, শরিয়তপুর জেলার পালং মডেল থানার নিয়ামতলুর (তুলাতলা) গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান খানের ছেলে হেমায়েত খান ও নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার গোসবাগ গ্রামের প্রোঃ তাসিফ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী সুলতান। মামলায় বাদি উল্লেখ করেন,আসামীগহণ পরস্পর লোভী,প্রতারক ও সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারীদলের সক্রিয় সদস্য। আসামী কনিকা আক্তার বাদির মেয়ে ফারজিয়া ইসলামের পরিচিত হওয়ায় বাদির মেয়ের সাথে বাদির উক্ত আসামীর মাধ্যমে অন্যান্য আসামীদের পরিচয় হয়। বাদি তার ছেলে আকাশ হোসেন (২৯) কে জীবিকার তাগিদে বিদেশ পাঠানোর ইচ্ছে কণিকা আক্তারের সামনে প্রকাশ করলে উক্ত নারী তার সহযোগীদের উল্লেখিত নাম প্রকাশ করে বলেন,ভাল বেতনে ইতালী পাঠায়ে দিতে পারবে তাদেরকে ৭ লাখ টাকা দিলে। বাদি উক্ত কণিকা আক্তারের কথা মতো বৈধভাবে উচ্চ বেতনে ইটালী পাঠানোর জন্য বাদি সহজ বিশ^াসে গত বছরের ১ অক্টোবর সকাল ১০ টায় তার বাড়িতে কাজী সফিকুর রহমান, হেমায়েত খানের কাছে ৪লাখ টাকা ও আকাশ হোসেনের পাসপোর্ট প্রদান করেন। উক্ত আসামীরা পাসপোর্ট ও নগদ ৪লাখ টাকা নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ১ নভেম্বর সকাল ১০ টায় বাদি তার বাড়িতে উক্ত আসামীদের কাছে ৩লাখ টাকা প্রদান করে ছেলেকে ইতালী পাঠানোর আশ^াসের ভিত্তিতে। ৮ নভেম্বর বিমান যোগে আকাশ হোসেনকে প্রথমে বাহরাইন পরে জেদ্দা নিয়ে যায়। সেখান থেকে সৌদি আরবে নিয়ে একটি অজ্ঞাতস্থানে আটক করে রাখে। পরে উক্ত স্থান থেকে আকাশ কে ১৪ নভেম্বর মিশর ও পরবর্তীতে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। ষেখানে আকাশকে অজ্ঞাতস্থানে আটক করে রাখে বাদির সাথে তার ছেলের সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আসামীরা বাদিতে আশ^স্ত করে আকাশ তাদেরকে সাথে আছে। আসামীদের আরো ১০লাখ টাকা দিলে তার ছেলেকে ইতালী পাঠানোর কথা বলে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এর একটি হিসাব নাম্বার দিয়ে উক্ত নাম্বারে ১০লাখ টাকা পাঠাতে বলে। টাকা না পেলে আকাশকে গুম করে হত্যার হুমকী দেয়। বাদি নিরুপায় হয়ে ধার দেনা করে গত ১ জানুয়ারী খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড মাদারীপুর শাখা হতে সুলতানের হিসাব নাম্বারে ১০লাখ টাকা প্রদান করে। টাকা পাঠানোর পর বাদির ছেলে সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনটি ওয়াটস্আপ ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে দেয়। বাদি বিষয়টি কোতয়ালি থানার স্মরনাপন্ন হলে থানা মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বাদি আদালতের স্মরনাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করে।
