স্থানীয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করার দাবি

খুলনায় অধিকার’র মানববন্ধন ও সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার : গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৬ টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করার দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় দেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
সমাবেশ ও মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্র্বতী সরকারের সকল অধ্যাদেশ-ই বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তারা সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছেন। কোন অদৃশ্য ইশারায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করছেন না সেটি দেশবাসীর কাছে বোধগম্য নয়। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে মূলত আয়না ঘরের প্রণেতা এবং গুম, খুন ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লংঘনকারী-অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপচেষ্টা গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। অবিলম্বে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করে সংশ্লিষ্টদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদী শক্তির পুণরুত্থান হবে। যার দায়ভার নিয়ে সরকারকে জনতার আদালতে জবাবদিহি করতে হবে বলেও বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সমাবেশে অধিকারের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫. দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৬ টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হিসেবে গন্য হবে এবং আগামী ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারাবে। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ- এই চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদে বিল আনার সুপরিশ করেছে।
আরও বলা হয়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে অংশ নিয়ে ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেন। জনগনের এই বিপুল রায়কে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের দাখিল করা নোট অব ডিসেন্ট অগ্রাহ্য করে বাতিলের সুপারিশ করেছেন।
এই প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার যে সুপারিশ করেছেন তা ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং দেশের জনগনের প্রতি সীমাহীন অন্যায়। মানবাধিকার এবং সুশাসন ছাড়া একটি দেশ কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারে না। তাই অধিকার অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে পাশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের ফোকাল পার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
অধিকার’র বিবৃতি পাঠ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এইচ আরডি ও সাংবাদিক কে এম জিয়াউস সাদাত।
বক্তৃতা করেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্নয়ক কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ- উজ-জামান, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান আব্দুর রাজ্জাক রানা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের খুলনা ব্যুরো প্রধান আবুল হাসান হিমালয়, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, নাগরিক নেতা শেখ আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ, পরিবেশ সংগঠন ছায়াবৃক্ষের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বাদশা, গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ অনিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন,
পুলিশ কর্তৃক দুই চোখ উপড়ানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ জালাল শেখ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারহান তুর্জ।
উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহাবুব হোসেন, মানবাধিকার কর্মী মাওলানা মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, এ্যাড. শহিদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী এম এ আজিম, অধিকার এর সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, মো. রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মো. শাহাজালাল মোল্লা মিলন, কলেজ ছাত্র মো. আবিদুল ইসলাম, আবুবকর সিদ্দিক, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ইমরান, কামাল হোসেন, মো. আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শাহিন মেহেদী, পুলিশ কর্তৃক দুই চোখ উপড়ানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহজালাল শেখের স্ত্রী রাহেলা বেগম, মো. ফাহাদ ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, শিক্ষার্থী জি এম সাইদুল ইসলাম, গালিব হাসান, মাজহারুল ইসলাম, আই এ আরাফাত, মো. সজিব হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ, মো. নুর উদ্দিন, জুনায়েদ জারিফ, আইমান তাসিফ, শেখ গালিব, সৈয়দ আলী হামিম, মো. জুনায়েদ ইসলাম ও বুশরা প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button