স্থানীয় সংবাদ

ভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামতকে অমান্য করে বর্তমান সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে : অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে নগরীতে ১১ দলীয় ঐক্য’র লিফলেট বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীর বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামতকে অমান্য করে বর্তমান সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। দেশের গণতন্ত্র, জনগণের ক্ষমতা এবং সাংবিধানিক অধিকার আজ হুমকির মুখে পড়েছে। বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, “গণভোটের রায় মেনে না নেওয়ার অর্থ হচ্ছে ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এখন জনরায় মেনে নিচ্ছে না। কীভাবে জনরায় বাস্তবায়ন করা লাগে জনগণ সেটি ভালো করেই জানে। সোজা পথে না আসলে জনগণ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।” কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লিফলেট বিতরণকালে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলমের পরিচালনায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতী শরীফ সাঈদুর রহমান, খেলাফত মজলিস খুলনা মহানগরী সভাপতি এফ এম হারুন আর রশিদ, লেবার পার্টি খুলনার সভাপতি প্রিন্সিপাল আ স ম সাইফুদ্দোহা, এনসিপি খুলনা মহানগরীর সংগঠক মো. শামসুল আরেফিন, খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির খুলনা মহানগর সভাপতি এডভোকেট হানিফ উদ্দীন, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, হরিণটানা থানা আমীর মো. আব্দুল গফুর, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম প্রমুখ। আগামীকাল ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৫টায় বাইতুন নুর কমপ্লেক্স মসজিদ চত্বরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য বৈধ হলেও জনগণের ভোটে গণভোট জয়যুক্ত হওয়ার পর বিএনপি সেটাকে বলে অবৈধ। বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটের বিপক্ষে কথা না বললেও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বিএনপির হওয়ায় তারা জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।” নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “দেশ পরিচালনার জন্য অবশ্যই সংবিধান লাগবে। কিন্তু সেই সংবিধান মুজিববাদের সংবিধান নয়, শেখ হাসিনার সংবিধান নয় বা বিএনপির মনগড়া সংবিধান নয়। সংবিধান হতে হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। গণভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, একনায়কতন্ত্র বন্ধ হবে, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন হবে। এ জন্যই বিএনপি গণভোট মানে না।” নেতৃবৃন্দ বলেন, “যারা জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে তাদেরকে ছাত্র-জনতা মাত্র ৩৬ দিনে ১৭ বছরের ক্ষমতার মসনদ ভেঙে দিয়েছে। আজকে যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না তাদেরকে ৩৬ দিন নয় ৩৬ ঘণ্টায় বিতাড়িত করতে পারে এদেশের ছাত্র-জনতা।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button