মাদকাসক্ত পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীকে হুমকি ও নির্যাতন

# সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় এক মাদকাসক্ত পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জীবননাশের আশঙ্কায় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী চম্পা কলি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। চম্পা কলি অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী পুলিশ কনস্টেবল মো. রবিউল ইসলাম (বিপি নং- ৮০০১০৫৬৩৬২) নিয়মিত মাদকাসক্ত অবস্থায় থাকতেন এবং বিয়ের পর থেকেই তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। তিনি জানান, ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ১০ লাখ টাকা কাবিনে তেরখাদা উপজেলার জয়সেনা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে তাকে জানানো হয়, রবিউলের প্রথম স্ত্রী অসুস্থ ও শয্যাশায়ী। তবে বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, প্রথম স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাকে না জানিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল ইসলাম প্রতিদিন নেশা করে বাড়িতে ফিরতেন এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। গাছের ডাল ও লোহার রড দিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মাত্র তিন মাস এই নির্যাতন সহ্য করার পর ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি তাকে তালাক দিতে বাধ্য হন এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, তালাকের পর থেকে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পথে-ঘাটে আটকিয়ে গালিগালাজ, মারধর এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। চম্পা কলির অভিযোগ, জীবিকার প্রয়োজনে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে গিয়ে বা ফোনে হুমকি দিয়ে তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক, সালমান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আসার আলো ক্লিনিকে কর্মরত অবস্থায়ও একই ঘটনার শিকার হন তিনি। তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি কীভাবে পুলিশে চাকরি করছেন, তা তদন্ত করা জরুরি। তার ডোপ টেস্ট করা হোক।”ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্ত কনস্টেবল বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত আছেন এবং মাঝেমধ্যে এলাকায় এসে তাকে হুমকি দিয়ে যান। সংবাদ সম্মেলনে চম্পা কলি সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


