স্থানীয় সংবাদ

সাংবাদিকরা শ্রমশক্তির অংশ হলেও প্রায়শই অন্যান্য শ্রমিকদের ভোগ করা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত : এহতেশামুল হক শাওন

# মহান মে দিবস উপলক্ষে এমইউজে খুলনার আলোচনা সভা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেছেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা শ্রমশক্তির অংশ হলেও প্রায়শই অন্যান্য শ্রমিকদের ভোগ করা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না। তবুও গণমাধ্যমগুলো মিথ্যা দাবি করে যে, বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য তারা মজুরি বোর্ড অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে। এই প্রতারক মালিকদের বিরুদ্ধে ইউনিয়নকে সক্রিয় হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আধুনিক সভ্যতা শ্রমিকদের রক্ত, ঘাম এবং শ্রমের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তবুও এই শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত।’ পহেলা মে শুক্রবার সকালে মহান মে দিবস উপলক্ষে খুলনা প্রেসক্লাবস্থ ইউনিয়ন কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা আয়োজিত আলোচনা সভায় এই সাংবাদিক নেতা এসব কথা বলেন।
ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য এইচ এম আলাউদ্দিন। সভায় বক্তৃতা করেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য ও খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নির্বাহী সদস্য কে এম জিয়াউস সাদাত, ইউনিয়নের সদস্য ও খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক বশির হোসেন প্রমুখ।
এহতেশামুল হক শাওন আরও বলেন, ‘আমাদের সুউচ্চ ভবনের প্রতিটি ইট শ্রমিকদের ঘামে স্থাপিত। এমনকি প্রতীকী তাজমহলও শ্রমিকদের পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে,’ তিনি সমাজের এমন একটি দ্বন্দ্ব তুলে ধরে বলেন, যেখানে শ্রমিকদের দ্বারা নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলো উদযাপন করা হয় কিন্তু এখনও তাদের প্রান্তিক করে রাখা হয়। তিনি ক্রমবর্ধমান শ্রেণি বিভাজনের উপর আলোকপাত করে বলেন, ‘আজকের সমাজ শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে বিভক্ত। যাদের টাকা আছে তাদের মালিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যাদের টাকা নেই তারা শ্রমিক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু প্রকৃত অর্থে উভয়ই সমাজের জন্য কাজ করে। তবুও যারা মালিক তারা এটি স্বীকার করে না।’ প্রসঙ্গত, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম আর সংহতির দিন মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ওই সময় তাদের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা ছিল না। নামমাত্র মজুরিতে তারা মালিকদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হতেন। হে মার্কেটে আহূত ধর্মঘটী শ্রমিক সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। গুলিতে মারা গিয়েছিলেন ৬ শ্রমিক। এর প্রতিবাদে ৪ মে হাজার হাজার শ্রমিক ফেটে পড়েছিলেন বিক্ষোভে। সেদিনও পুলিশের গুলিতে ৫ শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন। আন্দোলন গড়ে তোলার অপরাধে কয়েকজন শ্রমিককে মৃত্যুদ-ও দেওয়া হয়েছিল। এভাবে প্রাণের বিনিময়ে শ্রমিক শ্রেণি কায়েম করেছিল দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমের অধিকার। এরপর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট শ্রমঘণ্টার সঙ্গে পরে বেতনবৈষম্য দূর করা, ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র প্রদানের মতো বিষয়ও শ্রমিকদের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button