কেসিসির তেল চোরকে ধরতে তিন দফা কমিটি

# বাদী তদন্ত কমিটির সদস্য #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কেসিসি তেল চোর চক্রকে ধরতে কর্তৃপক্ষ তিন দফা কমিটি গঠন করেছেন। সর্বশেষ গত ৪ মে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহবায়ক হচ্ছেন কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, সদস্য হলেন কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ। গত ৪ মে কেসিসির ভারপ্রাপ্ত সচিব রহিমা খাতুন বুশরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস এর সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মুঠোফোনে জানান, খালিশপুর নিউমার্কেট এসটিএস এর ভিতর এসটিএস’র একটি ব্যাক হুইল লোডার জ্বালানি ট্যাংকির মুখ খুলে জ্বালানি তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি জ্বালানি তেলের ক্যানে কয়েক লিটার তেলসহ ক্যানটি জব্দ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যাক হুইল লোডার চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো হতে বিরত রাখা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য উল্লেখিত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে ঘটনার পরপরই প্রথম দফা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি থাকায় প্রশাসকের নির্দেশনায় ওই সদস্যকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে পুণরায় নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্যদের নাম হল কেসিসির এষ্ট্রেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন। তাকে বাদ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিচুজ্জামানকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিটির প্রধান করা হয় কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিচুজ্জামানকে। ওই কমিটির একজন সদস্য কেসিসির কনজারজেন্সি অফিসার ক অঞ্চল মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত অজুহাত খাড়া করে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ওই কমিটির তদন্তের মেয়াদ দেয়া হয়েছিল পাঁচ কর্মদিবস। তদন্ত চলাকালীন সময়ে একজন সদস্য পদত্যাগ করায় তৃতীয় দফায় পুণরায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সময় দু’ ড্রাম চোরাই তেলসহ দু’জনকে আটক করে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ওই তদন্ত রিপোর্ট আবারো খতিয়ে দেখলে কেসিসির চোরাই চক্রটির মুখোশ উন্মোচন হবে বলে সাধারণ চালকরা ধারণা করছেন। বর্তমান কমিটির সদস্য কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, “আমি এ ঘটনার বাদী। তদন্ত কমিটি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অথচ সেই ঘটনা গঠিত তদন্ত কমিটিতে আমাকে কোন নিয়মে সদস্য করা হয়েছে তা আমি বোধগম্য নয়।” যে কর্মচারি নুরুজ্জামান সুমন জীবনের ঝুকি নিয়ে তেল চোরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সুমনকে চক্রের সদস্যরা নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এতে করে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান। এ সংক্রান্ত তিনি প্রশ্সাকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলেও তা প্রশাসকের নিকট পৌছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। কারণ তেল চোর চক্রের কোন কোন সদস্য মেয়র দপ্তরে ঘাপটি মেরে রয়েছে। ওই চক্রটিই নুরুজ্জামান সুমনের দরখাস্ত প্রশাসকের নিটক না দিয়ে তা ধামা চাপা দিয়ে রেখেছে বলে ভুক্তভোগীর ধারণা।



