খুলনা জেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

# রোগীদের দেয়া হচ্ছে মনগড়া রিপোর্ট #
শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ খুলনা জেলার উপজেলা গুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতির নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। পাশাপাশি নেই ডিপ্লোমাধারি দক্ষ টেকনিশিয়ান, প্যাথলজি চিকিৎসক। বর্জ্য পরিশোধনের নেই সু-ব্যবস্থা। বাসাবাড়ী বা ছোট, বড় ভবন ভাড়া করে চলছে এই ব্যবসা। এমনকি তথ্য মতে ওয়ার্ডবয় বা দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করছেন প্যাথলজি বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমন লোকবল দিয়ে মানব দেহের পরীক্ষার রিপোর্ট করার অভিযাগে রয়েছে। এছাড়া চুক্তি ভিত্তিক সরকারী বড় চিকিৎসকদের নাম সীল ব্যবহার করে টেকনেশিয়ানরা রোগীদের মনগড়া রিপোর্ট প্রদান করছে। এতে করে রোগীরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমন পাচ্ছে না সঠিক নির্ভুল রোগ নির্নয় রিপোর্ট। খুলনা সিভিলসার্জন অফিসের তথ্য মতে খুলনা জেলাতে ৯টি উপজেলায় মোট ১০৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৩১টি প্রতিষ্ঠানের কোন লাইসেন্স নেই। পাশাপাশি ২৪ টি প্রতিষ্ঠানের নেই চলতি বছরের হালনাগাদ নিবন্ধন। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে এসব ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে রোগীরা হচ্ছে প্রতারিত পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের আওতায় ৯টি উপজেলার মধ্যে দাকোপ ও বটিয়াঘাটা, উপজেলাতে অবস্থিত সবগুলো ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স রয়েছে। তবে কয়রা উপজেলাতে তিনটি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে ২টি ক্লিনিক এর লাইসেন্স নেই প্রতিষ্ঠানটির নাম বাদশা ক্লিনিক। এছাড়া পাইকগাছা উপজেলাতে ২০ টি মালিকানাধিন ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে ৫টির কোন লাইসেন্স নেই। যার মধ্যে রয়েছে মায়েশা ক্লিনিক, রংধনু ক্লিনিক, পাইকগাছা মা ও শিশু সদন, ড্রিমফোর হসপিটাল, ও আশালতা ক্লিনিক। ডুমুরিয়া উপজেলাতে মোট ২৫টি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে ১২টি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর কোন লাইসেন্স নেই যার মধ্যে রয়েছে রাবেয়া ক্লিনিক ও খুলনা রিজি ক্যান্সার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আমেনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আঠারো মাইল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দলিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চুকনগর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খান ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন, নিউ অনুসন্ধান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শাহপুর ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আফিয়া ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডক্টরস ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রাবেয়া ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অ্যপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড কনসালটেশন, কেয়ার মেডিকেল ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ফুলতলা উপজেলায় মোট ১৬টি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠান ডিল্যাব কসসালটেশন এন্ড ডায়াগনস্টিক ও লিন্ডা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন লাইসেন্স নেই। দিঘলিয়া উপজেলা মোট ১১টি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে ৩টি প্রতিষ্ঠানের কোন লাইসেন্স নেই যার মধ্যে দিঘলিয়া ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পথের বাজার সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শাফিল ডিজিটাল ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, তেরখাদা উপজেলাতে মোট ৬টি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে স্বপ্নসিড়ি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ও চিত্রা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোন লাইসেন্স নেই, এদিকে রুপসা উপজেলা মোট ৮টি ক্লিন্কি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে ৩টি প্রতিষ্ঠানের কোন লাইসেন্স নেই যার মধ্যে রয়েছে রুপসা প্যাথলজি সেন্টার, আরাফাত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আজকের সারাদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এ দিকে এসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গুলো মানছেনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন নীতিমালা বলে অভিযোগ রয়েছে । বিষয়টি নিয়ে কথা ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেনের সাথে তিনি বলেন, আমার শারিরিক সমস্যার কারনে সিরাম ক্রিটিনি পরীক্ষা করতে যাই তেরখাদা চিত্রা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে রিপের্টে দেখা যায় আমার কিডনি পয়েন্ট ২.৩। আমি ভয় পাই এরপর খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ডাঃ বাসার দেখে আমাকে আবারও পরিক্ষা করতে বলেন। সেখানে দেখায় আমার কিডনি পয়েন্ট ১। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা সচেতন মহল মনে করেন উপজেলা পর্যায়ে অধিকাংশ এসব মালিকানাধীন স্বাস্থ্য-প্রতিষ্ঠানে সঠিক তদারকির অভাব রয়েছে কর্তৃপক্ষর। এতে করে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মানছেনা স্বাস্থ্য অধিপ্তরে নিতিমালা। অন্য দিকে অসহায় গরীব রোগী শারীরিক, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খুলনা সিভিলসার্জন ডাঃ মোছা: মাহফুজা খাতুন বলেন, আমাদের জনবল কম। তারপরও আমরা স্থানীয় ইউএইচএন্ড এফ পিও মাধ্যমে তদারকির নির্দেশনা দিচ্ছি। এছাড়া কোন ক্লিনিক অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিব। আমি নিজেই তদারকি করব।



