স্থানীয় সংবাদ

আলোর মিছিল: এক যুগের পরিবেশ ও মানবিক আন্দোলন এবং সফলতার গল্প

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
২০১৪ সাল। একদল কিশোরের হাতে সাইকেল, চোখে প্রকৃতিকে জানার অদম্য আগ্রহ আর হৃদয়ে পরিবেশকে ধারণ ও পরিবেশকে রক্ষার এক বুক ভরা স্বপ্ন। সেই সময় খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক এলাকা, নদী, গ্রাম ও জীববৈচিত্র্য পরিদর্শনে বের হন কিছু নিবেদিত তরুণ পরিবেশপ্রেমী । সাইকেলিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখার এই উদ্যোগই পরবর্তীতে একটি বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকৃতি পরিদর্শনের পর শেখ তারেক স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীদের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় উঠে আসে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বন্যপ্রাণীর সংকট এবং তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় একটি স্বপ্নকে রুপায়িত করার অদম্য কৌতুহল। গঠন করা হলো একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন “আলোর মিছিল”।
শুরু থেকেই সংগঠনটির পাশে দাঁড়ান স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ। উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন শেখ আঃ সালাম, মোলয়া মাকসুদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মনিরুল হক বাবুল, জিএম আকরাম, সৈয়দ জাহিদুজ্জামান, সৈয়দ শাহজাহানসহ আরও অনেকে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ তারেক, যিনি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এখনও নন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি একটি নিরপেক্ষ, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আলোর মিছিল বর্তমানে বাংলাদেশের এক সুপরিচিত নাম।
আলোর মিছিলের পথচলায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং সহ আরও অনেক তরুণ।
২০১৪ থেকে ২০২৬Ñ দীর্ঘ এই সময়জুড়ে “আলোর মিছিল” পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটি বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সচেতনতা প্রচার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রচারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
বিশেষ করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সংগঠনটির ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত। আহত বা বিপদগ্রস্ত বিভিন্ন পাখি ও বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন, বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রাণী অবমুক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
বর্তমানে “আলোর মিছিল” শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি পরিবেশ, মানবতা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তরুণদের এক স্বপ্নযাত্রা। স্বেচ্ছাশ্রম, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাকে ধারণ করে সংগঠনটি এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের আরও সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।
এক যুগের এই পথচলায় আলোর মিছিল প্রমাণ করেছেÑ ছোট একটি সচেতন উদ্যোগও সময়ের সাথে সমাজে বড় পরিবর্তনের আলো ছড়াতে পারে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে সমাজের কিছু স্বার্থান্বেষীমহল আলোর মিছিলের বাপের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত নিবেদিত হয়ে স্বদ্যোগে নানা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা করে চলেছে দিনের পর দিন। নিজ স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের মূল্যবান সম্পদ জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে প্রবল শীতের ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে যে যুবকেরা ঠান্ডা কাদা পানিতে নেমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, তাদের সাদুবাদ জানানোর পরিবর্তে যারা নাক ছিটকায়, সমালোচনা করে, লিখতে গেলে কলম ভাঙ্গে তবুও এক কলম লিখতে হয়, তাদের জন্য ধিক্কার ও নিন্দার ভাষা নেই, এমনই আক্ষেপ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন এই সুন্দর, মানবিক ও জীববৈচিত্র্েযর অতন্ত প্রহরী হিসেবে আলোর মিছিলের নিবেদিত এক ঝাঁক নিবেদিত প্রাণ। পাশাপাশি সন্মানিত উপদেষ্টামন্ডলী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button