স্থানীয় সংবাদ

প্রচন্ড গরমে খুলনায় স্বস্তির বৃষ্টি : শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা

# মৌসুমি বায়ূ সক্রীয় ও মেঘমালার দরুন এই বৃষ্টিপাত, থাকতে পারে কয়েক দিন #
# খুলনায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৫ মিঃ মিঃ, গুরুত্বপূর্ন সড়ক ও নি¤œঞ্চালে জলাবদ্ধতা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় কয়েক দিনের টানা তাপ প্রবাহের পর বুধবার (১০ জুন) বিকাল হতে শুরু হয় স্বস্তির বৃষ্টি। বিরতিহীন বৃষ্টিপাতের দরুন খুলনায় কয়েক দিনের টানা তাপদাহ্্ের পর স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা সর্ব বয়সি মানুষ স্বস্তির বৃষ্টির পরশ পেয়ে ফেলেছে স্বস্তির নিঃশ^াস। খুলনা আবহাওয়া অফিস বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ূ সক্রীয় ও আকাশে মেঘমালার ঘনঘটায় এই খুলনায় এই বৃষ্টিপাত, থাকতে পারে আরো কয়েকদিন। বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৬ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খুলনায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৫ মিঃ মিঃ। এদিকে, খুলনায় কয়েক দিনের টানা তাপ প্রবাহের পর বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা হতে বিরতিহীন স্বস্তির বৃষ্টি শুরু হয়, তবে একদিকে এই বৃষ্টি স্বস্তি মেলালেও অন্যদিকে খুলনার গুরুত্বপূর্ন সড়ক ও নি¤œঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির দরুন বাড়িয়েছে দুর্ভোগ। বিরতিহীন বৃষ্টির দরুন সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরীসহ আশপাশের স্থানীয় এলাকাগুলোতে সাময়িক চলাচলে দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী, পানি বন্দি হয়ে পড়ে অনেকেই। এছাড়া বিরতিহীন বৃষ্টির দরুন দিন শেষে কর্মস্থল থেকে ঘরমুখো নগরবাসী সাময়িক সময়ে ভোগান্তিতে পড়ে, সড়কে যান চলাচল কমে যায়। নগরীর কাঁচা সবজি ও মাছ-মাংসের দোকানগুলোতে স্যাঁতস্যাঁতে বৃষ্টি-কাঁদার দরুন ক্রেতা উপস্থিতি কমে যায়। তবে এসময় তীব্র তাপ প্রবাহে পাগল প্রায় তরুনদের বৃষ্টিতে মোটরসাইকেলসহ হেঁটে ভিজতে দেখা গেছে। দৌলতপুর ঋষিপাড়া মোড় এলাকার বাসিন্দা সারাফত হোসেন জানান, চাচি মারা যায় বুধবার (১০ জুন) ভোরে। আসর বাদ জানাযার সময় ছিল। জানাযার ঘন্টাখানের আগে থেকে বৃষ্টি শুরু হয়, থামার নাম নেই। বিরতিহীন বৃষ্টিপাতের কারণে অবশেষে ঈদগাহের খোলা মাঠ ছেড়ে দৌলতপুর আঞ্জুমান মসজিদে জানাযা নামায শেষ হয়। বৃষ্টির কারণে আসরের নামাযের পর জানাযা শেষ হলেও দাফন সম্পন্ন হয় মাগরিবের নামাযের পর। নিশ্চয়ই বৃষ্টি আল্লাহর রহমত, তাই দুর্ভোগ হলেও আল্লাহর নিয়ামত মনে করেছি। সেলুন ব্যবসায়ী বাপ্পী জানান, বিকালে সেলুন খুলি। খোলার পর হতেই শুরু হয় বৃষ্টি, পড়ছে তো, পড়ছেই। কাস্টমার নেই। পড়ে পড়ে ঘুমিয়েছি। তবুও ভালো লাগছে, যে গরম কমেছে। কয়েকদিন ঘরে যে গরম সহ্য করা যাচ্ছিল না। দুনিয়াটা ঠান্ডা হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ী হামিম তালুকদার বাবু জানান, মনে হয় গতকালের বর্ষাই এ বছরের সেরা বর্ষা, অর্থ্যাৎ, এ বছরের বেশি বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাতের কারণে খুলনা-যশোর সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আমার হোটেলের সামনে বিশাল জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানির কারণে কাস্টমার আসা-যাওয়াই বেশ ব্যাঘাত ঘটে। তবে বৃষ্টি সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও কয়েক দিনের টানা গরমে স্বস্তি জুগিয়েছে, আলহামদুল্লিাহ। পথচারী সুমন জানান, জরুরী কাজ ছিল রুপসায় তাই বাধ্য হয়েছি ঘর হতে বের হতে। মাথা নষ্ট রয়েল চত্বর মোড়সহ গুরুত্বপূর্ন সড়কগুলোতে হাঁটুজল। খুলনায় সারা বছর দেখি ড্রেনের কাজ চলে, কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই খুলনায় হাটুজলে পড়ে দুর্ভোগ। এ থেকে কি আমাদের মুক্তি মিলবে না। গৃহিনী কিরণ হামিদ জানান, কয়েক দিনের টানা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে ঘরের ভেতরের যে ভ্যাপসা গরম ছিল, তা কেটে গেছে। বাচ্চা-কাচ্চাসহ বৃদ্ধা-আবাল বনিতা গরমে ছটফট করছিল, এই বৃষ্টি স্বস্তি সকলকে স্বস্তি জুগিয়েছে। তবে ঘরের বাইরে পানি জমেছে, এতে চলাফেরায় বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তারপরও বৃষ্টির দরকার ছিল। কাঁচা সবজি ব্যবসায়ী মিঠু জানান, সন্ধ্যা বাজার সন্ধ্যার পর প্রতিদিনই বেশ ক্রেতা সাড়া মেলে। তবে গতকাল যে পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে বাজারে কাদার মধ্যে ক্রেতা কম ভিড়বে। এতে করে সবজি থেকে যাবে। আমার কিছু লোকসান হবে, তারপরও ভালো, কয়েকদিন ধরে যে গরম পড়ছে, তা থেকে স্বস্তি মিলেছে। খুলনায় সার্বিক বৃষ্টিপাতের বিষয়ে আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, ক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ূ সক্রীয় ও আকাশে মেঘমালার ঘনঘটার কারণে এই খুলনায় এই বৃষ্টিপাত। বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৬ থেকে ৯ টা পর্যন্ত খুলনায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৫ মিঃ মিঃ। বৃষ্টিপাতের এই সম্ভবণা থাকতে পারে আরো কয়েক দিন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button