স্থানীয় সংবাদ

সাতক্ষীরা জজকোর্ট মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হলেই হাফেজ কুদ্দুসকে মারধর

ভয়ে পালিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
বিচার চেয়ে ডিআইজি বরাবর অভিযোগ দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরা জজকোর্ট মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাহির হওয়া মাত্রই অন্যায়ভাবে মারধর করে দুইদিন আটকিয়ে রাখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। (২১ জুন) বেলা ১২ টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী হাফেজ মো. রুহুল কুদ্দুস।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ জুন সাতক্ষীরা জজকোর্ট মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাহির হওয়া মাত্রই কিছু সংখ্যাক স্থানীয় সন্ত্রাসী আঃ রশিদের ছেলে মো. আবির, আঃ রাজ্জাকের ছেলে আসিফ, আঃ খালেকের ছেলে আসাদ, আফসার আলী’র ছেলে আনারুল, মুন্না’র ছেলে জাকারিয়া, শেখ সিরাজুল ইসলামের ছেলে শাহিল হোসেন রাহুল, রফিকুলের ছেলে মো. তুষারসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জনের সংঘবদ্ধ দল পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে উক্ত হাফেজ মো. রুহুল কুদ্দুসকে জীবনে শেষ করে দেওয়ার জন্য তার দিকে ছুটে যায়। তখন তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে দিকে জীবন বাঁচাতে ছুটে গেলে সেখান থেকে সন্ত্রাসীরা বেদম মারপিট করে। এমনকি অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের মোবাইলে ডেকে এনে মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে প্রায় ১২/১৫ টি মোটরসাইকেল যোগে এসে তারা ভুক্তভোগী কুদ্দুসকে একটি মোটর সাইকেলে নিয়ে মো. আঃ রাজ্জাক কন্টাকটরের বাড়ীতে নিয়ে যায়। তারা পতিমধ্যে তারা শলা পরামর্শ করতে থাকে বাগানের মধ্যে নিয়ে মেরে ফেলা যাবে না। কারন আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে নিয়ে আসার কারনে উক্ত স্থানে বিজ্ঞ আইনজীবি, স্থানীয় লোকজন এবং সিসি ক্যামেরা রয়েছে। যার কারনে তারা কুদ্দুসকে আঃ রাজ্জাকের বাড়ীতে নিয়ে ৫/৬ ঘন্টা আটকিয়ে রেখে শারিরীকভাবে চরম নির্যাতন করে।
ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে থানায় অবহিত করলেও থানা কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে তার শাররীক অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে তিনি তার পরিবারের সাথে রয়েছে। উক্ত সন্ত্রাসীরা বর্তমানে ভুক্তভোগীকে আবার হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী আবির হোসেনের চরিত্রহীন মা সামছুর নাহারের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় গত ১৪ জুন অভিযোগ দায়ের করেন। অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য অভিযোগ করার কারনে উল্টো জীবনে শেষ করে দেওয়ার জন্য শারিরীক নির্যাতন করা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যে কারণে খুলনার রেঞ্জ ডি আইজি এর নিকট একজন কোরআনের হাফেজ হিসেবে প্রতিকারের দাবিতে ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
ডিআইজি’র কাছে দাবি জানিয়ে হাফেজ কুদ্দুস আরও বলেন, একটি দলের ছত্র ছায়ায় থাকা এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
উক্ত বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। বর্তমানে তিনি খুবই অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। এমনকি চরমভাবে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button