বৈরী আবহাওয়াতে সবজি-মাছের বাজারে উর্দ্ধগতি : হতাশ নি¤œ আয়ের মানুষেরা

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ গেল সপ্তাহ জুড়ে টানা অতিভারী বর্ষণে বাজারে সব ধরনের সবজি, মাছের দাম উর্দ্ধগতিতে। এতে করে ভালো নেই নি¤œ আয়ের মানুষেরা। এ দিকে ব্যবসায়িরা বলছেন এমন বৈরী আবহাওয়া চলমান থাকলে আরও বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের বাজার। পরিবহন ব্যবস্থার সাময়িক সমস্যা, সবজির আবাদ নষ্ট, বিভিন্ন কারণে বেড়েছে সব ধরনের সবজির বাজার এমনটি বলছেন খুচরা ব্যবসায়িরা। গতকাল নগরীর বেশ বয়েকটা বাজার ঘুরে দেখা গেছে। বেগুন ১২০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, কুশি ৯০ টাকা, চাল কুমড়া ৯০ টাকা, কাকারোল ৯০ টাকা, পটল ৯০ টাকা, ঝিঙে ৮০-৯০ টাকা, কাঁচাঝাল বরজ প্রতিকেজি ২০০ টাকা। তবে পেঁয়াজ, আলু, রসুনের দাম আগের মত ক্রেতাদের নাগালে। তবে কমেছে মাংসের দাম। গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকায় ও খাশির মাংস ১০৫০ টাকা থেকে ১১শ টাকা, মুরগী ব্রয়লার প্রতিকেজি ২০০ টাকা, সোনালী ৩২০ টাকা, দেশি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মাছ বাজার ঘুরে দেখা ছোট জাটকা সাইজের ইলিশ ২শ গ্রামের সাইজ ছোট মাছ বিক্রি হচ্ছে ১হাজার টাকা প্রতি কেজি, এছাড়া পারসে মাছ প্রতি কেজি ৬শ’ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮শ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, রুই মাঝারী ৪শ’ টাকা কেজি, কাতলা মাঝারী ৩৫০ টাকা কেজি, রুই বড় ৪৫০ টাকা কেজি, পাঙ্গাস মাছ আর তেলাপিয়া মাছের দাম আগের মত কিছুটা নাগালে। পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২০ টাকা দরে ও তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে, যা গেল এক মাস আগেও দাম ছিল নাগালের মধ্যে। এতে করে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে দৈনিক শ্রমিক ও নি¤œ মধ্য আয়ের মানুষদের। এ বিষয়ে কথা কথা হয় রিক্সা চালক আবুল কালামের সাথে তিনি বলেন, গেল কয়েকদিন টানা বর্ষণে সড়কে পানি থাকায় রিক্সা নিয়ে বের হতে পারিনি। আমার শরির ভালোনা । আজ বের হয়েছি। সকাল পর্যন্ত বেশ যাত্রী ছিল কিছু আয় হয়েছে। তবে হঠাৎ করে চাল, সবজি, মাছের দাম বেশ বেড়েছে। আমরা গরীব মানুষ কাজ করলে খেতে পারি না করলেও খেতে পারি, বাকি বা ঋণ নিয়ে চলি । একই কথা বলেন, বেসরকারী চাকুরীজীবি নয়ন ইসলামের সাথে তিনি বলেন, আমরা চাকুরীজীবি নির্ধারিত উপার্জন। আর হিসাব করে চলতে হয়। কি বাবদ কি খরচ করে মাস উঠানো যায়। ঈদের পর যেসব কিছুর দাম একটু বেড়েছে। বিশেষ করে মাছের বাজার সবজি সহ চাল সব কিছু । আগের বছরের তুলনায় দাম যে খুব বেড়েছে । তবে দাম কিছুটা লাগাম টেনে ধরা উচিত বা এর ভিতর কোন সিন্ডিকেট আছে কিনা সেই বিষয়টা দেখতে হবে। এ বিষয়ে সবজি বিক্রেতা গাজী আলামিন বলেন, গেল কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজির বাজারে প্রভাব পড়েছে । এছাড়া কাচামালের আড়তে সরবরাহ কমেছে । অতি বৃষ্টি আর বন্যায় ফসলী জমি সবজির আবাদ পানিতে ডুবে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বৈকালী বাজারে মাছ বিক্রেতা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, গেল কয়েকদিনের ভারী অতি বৃষ্টির প্রভাবে জেলেরা মাছ ধরতে পারেনি। এবছর আমরা জাটকা ইলিশ ১১শ টাকা দরে বিক্রি করছি যা গেল বছর বিক্রি করেছি ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকা দরে। এছাড়া অন্যান্য মাছের দাম বেড়েছে। মাছ বাজারে সরবাাহ নেই। তবে আবহাওয়া উন্নত হলে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।



