জুলাই আন্দোলনের দিনগুলি-২৪

পাঁচদিন পরে সমন্বয়ক আসিফকে চোখ বাঁধা সেন্সলেস অবস্থায় উদ্ধার # আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ বাংলাদেশির কারাদ- #
এম সাইফুল ইসলাম ঃ চব্বিশের ২৪ জুলাই বুধবার। কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের খোঁজ পাওয়া গেছে। কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের খোঁজ পাওয়া গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই আসিফ মাহমুদকে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। তবে, গত চারদিন ধরে তার সঙ্গে অন্যদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু বুধবার তাকে খুজেঁ পাওয়ার কথা জানায় অপর এক সমন্বয়ক সারজিস আলম। এদিন বিকেল ৬টার দিকে আসিফ মাহমুদ তার ব্যাক্তিগত একাউন্ট থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন।
তার ব্যাক্তিগত আইডি থেকে বলেন, আমি আসিফ মাহমুদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক। গত শুক্রবার ১৯ জুলাই রাত ১১ টায় আমাকে হাতিরঝিলের, মহানগর আবাসিক এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। না মানায় ইনজেকশন দিয়ে সেন্সলেস করে রাখা হয়। এই চার/পাঁচদিনে যতবার জ্ঞান ফিরেছে ততবার ইনজেকশন দিয়ে সেন্সলেস করে রাখা হয়। ২৪ জুলাই, বুধবার সকাল ১১ টায় আবার একই জায়গায় চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দিয়ে যায়৷ এখন আমি পরিবারের সাথে হাসপাতালে চিকিৎসারত আছি৷ এই কয়দিনে যা ঘটেছে তা জানার চেষ্টা করছি। কিছুটা সুস্থ হলেই সমন্বয়কদের সাথে কথা বলে আন্দোলনের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবো। যে চারজন সমন্বয়কের নিখোঁজের কথা বলা হয়েছিল তারা হলেন আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, রশিদুল ইসলাম রিফাত ও আবু বাকের মজুমদার। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং বাকি একজনকে ১১ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ওই বিক্ষোভ করেন বলে খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ওই বিক্ষোভের পরদিন শনিবার (২০ জুলাই) আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বিবৃতি দিয়ে প্রবাসীদের এ ধরনের কর্মকা- থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সবার জেনে রাখা ভালো, এই দেশের আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষগুলোর পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা বা স্লোগান দেওয়া নিষিদ্ধ। জনগণের মধ্যে অস্থিরতা, আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো কাজ করা, গুজব বা অপপ্রচার চালানো কিংবা এই ধরনের কোনো বক্তব্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এই দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেউ উল্লিখিত কাজগুলো করলে তাঁকে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তাঁর ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে, জেল-জরিমানা হতে পারে, তাঁকে আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে বা ভবিষ্যতে তাঁর আমিরাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সোমবার এক আলাদা বিবৃতিতে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, আমিরাতে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাঁরা শান্তিপ্রিয় ও কঠিন পরিশ্রমী। তাই যেসব মুষ্টিমেয় প্রবাসী বাংলাদেশি বেআইনি কাজ করেছেন, তাঁরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন না। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমিরাতকে নিজেদের দ্বিতীয় আবাস মনে করেন। তাঁরা স্থানীয় আইন, বিধিবিধান, প্রথার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।



