খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের হাম শনাক্ত : হাসপাতালে ভর্তি ৫২

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৬ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৬ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম কিংবা নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত জেলাভিত্তিক তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
খুলনা বিভাগ পরিচালক ( স্বাস্থ্য) ডা: শেখ মো: মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায় ২২ জন। খুলনায় ১০ জন, মাগুরায় ৯ জন, বাগেরহাটে ৪ জন, নড়াইলে ৪ জন, সাতক্ষীরায় ৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩ জন এবং মেহেরপুরে ১ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। যশোর ও ঝিনাইদহে এ সময়ে নতুন কোনো সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়নি। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ জন, যাদের সবাই নড়াইল জেলার। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত :
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৯ হাজার ৩৮৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে ৮ হাজার ৯৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৮ হাজার ৬৪৬ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
একই সময়ে ৩৩ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
এই সময়ে খুলনা বিভাগে মোট ৩৬৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে নড়াইলে ৮৫ জন। এরপর বাগেরহাটে ৭৪ জন, যশোরে ৫৮ জন, খুলনায় ৪৭ জন, মাগুরায় ২৭ জন, সাতক্ষীরায় ২৪ জন, কুষ্টিয়ায় ২৩ জন, ঝিনাইদহে ১৭ জন এবং মেহেরপুরে ১০ জন। চুয়াডাঙ্গায় এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা শূন্য।
কোন জেলায় কতজনের মৃত্যু :
১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে খুলনা জেলায়Ñ১৬ জন। কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, ঝিনাইদহে ২ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ১ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, খুলনা বিভাগে হাম পরিস্থিতি এখনও নজরদারির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির তথ্যের ভিত্তিতে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



