দুর্নীতির দায়ে বদলী হল ডুমুরিয়ার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার নিলুফা ইয়াসমিন

এম রুহুল আমিন : অবশেষে দুর্নীতির দায়ে তহশিলদার নিলুফা ইয়াসমিনকে বদলি করা হলো খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। তার স্থলাভিত্তিক হলেন সরদার অহিদ মুরাদ। ৬ সেপ্টেম্বরের-২০২৬-.১৫৯০নং স্মারকে জেলা প্রশাসকের আদেশক্রমে নিলুফাকে দাকোপে বদলি করা হয়। বদলি আদেশে উল্লেখ করা হয় বদলিকৃত কর্মকর্তাদ্বয় ৭ সেপ্টম্বর মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়ামিনের নামে ভয়াবহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।গুটুদিয়া ইউনিয়নের ৫৫৪৩ দাগের খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২ একর ৪৩ শতক জমি শেখ তুহিনুল ইসলাম নামে লিজ প্রদান করা হয়। ৫৫৪৩ দাগের ১একর আড়াই শতক জমি নজরুল ইসলামের নামে নামপত্তন করে দেয়।মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিবেদন দেন নিলুফা ইয়াসমিন। ইতিপূর্বে অন্যান্য তহশিলদাররা সরকারের পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও নিলুফা ইয়াসমিন সরকারের বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন। এতে সরকারের জমি যেমন হাতছাড়া হল। রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হলো সরকার। থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার (নায়েব) নিলুফা ইয়াসমিন’র নামে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর ৩টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে এলাকার ভুক্তভোগী ব্যক্তিগণ। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বে নিলুফা ইয়াসমিন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা থাকাকালীন ফুলতলার দামোদর, থুকড়া, দৌলতপুর, বালিয়াডাঙ্গা ইউ: ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন প্রতিটি অফিসেই নায়েব নিলুফার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। চকআসানখালী মৌজার এস এ ১৬৪ নং খতিয়ানের স্থলে আর এস ৫১৫ ও ৫১৬ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক বেগম আশরাফুন্নেছা এর নামে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়সহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক’র নিশেধাজ্ঞা এবং উচ্চ আদালতে দেঃ ১২/৯৮, ৯১/০৩ সিভিল রিভিশন-১২৩৯/০৬, ল্যান্ড-৮৬/১৫ নং মামলা রেজিষ্টার ২ বহিতে লিখিত থাকা স্বত্বেও অধিক উৎকোচের বিনিময়ে বিগত ২৭ ডিসেম্বর-১১ তাং ৮৫৬৫৬৮ নং দাখিলায় সর্ব প্রথম বাংলা ১৩৭৯ হইতে ১৪১৮ সাল পর্যন্ত মোট ১৩,৭৬২/-টাকা আদায় করেন। যার দরুণ নিলুফা ইয়াসমিন প্রাপ্ত উৎকোচের টাকা দিয়ে মুজগুন্নী মৌজার আর এস ৪৪৩ নং খতিয়ানের ১৫২৯ নং দাগের ৫শতক জমি স্বামী মো. সেলিম করীম, পিতা-বাচ্চু মিয়ার নামে ক্রয় করে ভাড়াটিয়া থেকে বাড়িওয়ালা হন। তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০১৫ সালে দামোদর তহসিল অফিসে কর্মরত থাকাকালীন নিলুফা ইয়াসমিন এফ-২৫৩১৯৪-২৫৩২০০, ২৫৩৯৪-২৫৩৩০নং ৪টি দাখিলা বহি থেকে শেষের ৭ পাতা করে মোট ২৮টি দাখিলা চুরি করে গোপনীয়ভাবে বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন ইন্ডাট্রিজের খাজনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। খাজনা কর্তন করে মোটা অংকের টাকা আয় করেন। উক্ত ঘুষের টাকা দিয়ে স্বামীর নামেএকাধিকবার অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত হয়েছে। দুর্নীতি করে গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড় ১২৬৪ ও ১৮৮৭ নং খতিয়ানে ০.০৭০০ একর জমিসহ নামে বেনামে অনেক সম্পদ গড়ে তোলেন ও মুজগুন্নী মৌজায় খুলনা যশোর মহাসড়ক সংলগ্ন বিলাস বহুল করিম টাওয়ার নির্মাণ করেছেন। টাওয়ারের সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের এবং জেলা প্রশাসকের প্রায় ২০ শতক জমির উপরে ভারী মেশিনারিজের দোকান করেছে। যার ফলে বদলী হয়ে দৌলতপুর আসেন এবং দৌলতপুরে এসে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে বয়রা মৌজার নিষেধাজ্ঞাকৃত খতিয়ানের খাজনা কেটে দুর্নীতি,ঘুষগ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে নিলুফা ইয়াসমিনের নামে বিভাগীয় মামলা হয়। যার মামলা নং-১/২০১৯। উক্ত মামলায় গুরু দন্ড থেকে লঘু দন্ডে বেতন গ্রেটের নি¤œ ধাপে অবনমিতকরণ করা হয় ও জেলা প্রশাসক মোহান্নদ হেলাল হোসেন গত ২৪/০১/২০১৯ চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সুত্রে জানা যায়, এই ঘুষখোর নায়েবের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৪ উপ-সহকারী থেকে সহকারী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতী নেন। নায়েব নিলুফার স্বামী সেলিম করীম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর এপিএস ও ভাই শাহাবুদ্দিন’র একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেই সুবাদে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শাহাবুদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ীতে আসতেন। এখন বিএনপি’র গাঁ ঘেষে চলছেন। তার স্ত্রী নায়েব নিলুফা বিভিন্ন মান্যবর ব্যক্তির নিকটে বিএনপির ছাত্র বিষায়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল কে নিজের ফুফাতো ভাই বলে পরিচয় দিয়ে চলছেন।ফুলতলা উপজেলার দামোদর মৌজার স্কাউট ভবনের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড দেন। দামোদর মৌজার সরকারের ক তফশিলভুক্ত অধিকাংশ সম্পত্তির দাখিলা প্রদান করেছে। যা অডিট আপত্তিতে নায়েব নিলুফা ইয়াসমিনকে দায়ী করা হয়। ইতিপূর্বে ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউ: ভূমি অফিসে ছিলেন বর্তমান থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (নায়েব) নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সরকারী জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে টাকা আত্মসাদের অভিযোগ রয়েছে।০৪০.১৩-১৮১নং স্বারকে, ২৩নভেম্বর-২০১৫খ্রিঃ, জেলা প্রশাসক বরাবর অডিট আপত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদনের জবাব না দেয়ায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ঢাকা হতে ৪ ডিসেম্বর-২০১৯ পূর্ণরায় অডিট আপত্তি নোটিশ আসে। তাতে উল্লেখ থাকে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলাধীন দামোদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন কর্তৃক বিধি বহির্ভূতভাবে ৩৪ লক্ষ ৪১ হাজার তিনশত বাহাত্তর টাকা মূল্যের ঝধ ও ঞ অপঃ এর ৯২ ধারামতে খাস খতিয়ানভুক্ত ০,১৪ একর সরকারি সম্পত্তি এবং বাংলাদেশ গেজেটের ক তফশিলভুক্ত ০.১৫ একর সম্পত্তির দাখিলা ২০১৪-১৫ সালে ব্যক্তি মালিকানায় প্রদান করে। যার পূর্ণরায় তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল। দুর্নীতিগ্রস্থ নিলুফা ইয়াসমিন ৯ জানুয়ারী-২০০৩ চাকুরিতে যোগদান করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনমহল ও ভুক্তভোগীগন বলেন, শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিলুফা ইয়াসমিন যে ভূমি অফিসে গিয়েছে সেখানেই একাধীকবার অনিয়ম ও দুর্নীতি দায়ে দন্ডিত হয়েছে। এরপরেও অদক্ষ,অযোগ্য, ঘুষখোর ও দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষ কিভাবে চাকরীতে প্রমোশন দিল কর্তৃপক্ষ ও থুকড়ার মতো এত বড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কিভাবে পদায়ণ করলো ভূমি কর্তৃপক্ষের নীতি নির্ধারনী মহল।এই সমস্ত দূর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তাদের একস্থান থেকে অন্য স্টেশনে বদলী করলে দূর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করা সম্ভব নয়।এদের সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করলে,তবেই ভূমি সেক্টরের অনিয়ম দুর করা সম্ভব।



