স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে কুদ্দুস শেখের বিরুদ্ধে ২টি মামলা, প্রশ্ন উঠছে অঢেল সম্পদের উৎস নিয়ে

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমণি উত্তরপাড়া এলাকায় মিটার টেম্পারিং ও অবৈধভাবে সার্ভিস তার লিক করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগে মৃত রাজ্জাক শেখ এর পুত্র মো. কুদ্দুস শেখ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ বিদ্যুৎ আদালত, খুলনায় পৃথক দুটি সিআর (ঈজ) মামলা দায়ের করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ওজোপাডিকো), বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫। অসাধু উপায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পর থেকে এলাকায় তার আয়ের গোপন উৎস এবং হঠাৎ গড়ে তোলা প্রচুর জমি-জমার ক্রয়সূত্র নিয়ে তীব্র জনশ্রুতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-কোন অদৃশ্য ছায়াতলে তিনি অল্প সময়ে বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন ? প্রথম মামলা (সিআর ২৬৯/২৫)নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে শিরোমণি উত্তরপাড়ায় আসামীর নিজস্ব আইস ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় ওজোপাডিকোর টিম। পরিদর্শকালে থ্রি-ফেজ প্রিপেইড মিটারে টেম্পারিং করে(সার্ভিস তার লিক করে) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ৭০ কিলোওয়াট লোড ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-এর ধারা অনুযায়ী জরিমানা ও ভ্যাটসহ মোট ৬,৭৬,৭৯৩/- (ছয় লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার সাতশত তিয়ানব্বই) টাকার পেনাল বিল আদায়ের দাবিতে প্রথম মামলাটি (সিআর ২৬৯/২৫, তারিখ: ২৩/১১/২০২৫) দায়ের করেন ওজোপাডিকোর সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজ হাসান। দ্বিতীয় মামলা (সিআর ১৬১/২৬) প্রথম মামলার পর শুধরে না গিয়ে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হন কুদ্দুস শেখ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), বিদ্যুৎ আদালত, খুলনার পরিচালনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একই স্থানে ‘আইস এন্ড কোল্ড স্টোর’-এ গ্রাহকের মিটারের সার্ভিস তার লিক করে ও সিটি সিল টেম্পার করে বিদ্যুৎ চুরির প্রমাণ মেলে। উক্ত ঘটনায় ওজোপাডিকোর সহকারী প্রকৌশলী কিশোর ঢাকইদার বাদী হয়ে পেনাল বিল ও ভ্যাটসহ মোট ১১,৪৯,৬৮৯/- (এগারো লক্ষ ঊনপঞ্চাশ হাজার ছয়শত ঊননব্বই) টাকা আদায়ের লক্ষ্যে দ্বিতীয় মামলাটি (সিআর ১৬১/২৬, তারিখ: ১৩/০৯/২০২৬) দায়ের করেন। একই স্থানে দু-দুবার ভয়াবহ বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আত্মসাতের ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার পর মো. কুদ্দুস শেখের সম্পদের হিসাব নিয়ে নানা মুখরোচক তথ্য বেরিয়ে আসছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাধারণ ব্যবসা পরিচালনার আড়ালে তিনি কীভাবে একের পর এক জমি খরিদ ও অঢেল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে তদন্ত আবশ্যক। এলাকাবাসীর দাবি “যেখানে পুরো দেশে বিদ্যুৎ সংকট চরমে, সেখানে এমন অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকা- কতটা সমীচীন-তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।” বিদ্যুৎ চুরির মতো বেআইনি কর্মকা-ের পেছনে তার অন্যান্য গোপন আয়ের উৎস এবং অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসীর সহ সচেতন মহল। এ ব্যাপারে প্রতিনিধি কুদ্দুসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার একাধিকবার চেষ্টা করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button