স্থানীয় সংবাদ

মাদকবিরোধী অবস্থানের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : মাদকবিরোধী কর্মকা- ও এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় সাংবাদিককে আটক করতে গিয়ে না পেয়ে তাঁর ১৬ বছরের ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর মাধ্যমে ওই কিশোরকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার বাসা থেকে পুলিশ ওই কিশোরকে নিয়ে যায়। সে গিলাতলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পাশাপাশি অন্য একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগেও পড়াশোনা করে। এ ঘটনায় পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
কিশোরের মা সুমনা বেগম অভিযোগ করেন, বাড়িতে অভিযানের সময় পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল করে। তাঁর ছেলেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার তার বাবাকে উদ্দেশ করে গালাগাল করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওসির নির্দেশেই ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আবুল বাশার। তিনি বলেন, ওই কিশোর পুলিশের সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে গালাগাল করেছিল। এ কারণে তাকে থানায় আনা হয়। পরে জন্মসনদে বয়স ১৬ বছর প্রমাণিত হলে প্রবেশন কর্মকর্তার জিম্মায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে বা পরিবারের কাউকে মারধর কিংবা গালাগাল করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কয়েক মাস ধরে তিনি ও এলাকার যুবসমাজ গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার কথিত মাদক ব্যবসায়ী শাবানা ও তাঁর ছেলে সাগরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় বলে দাবি তার।
তার অভিযোগ, মাদকবিরোধী কর্মকা- এবং এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে থানার ওসির সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিরোধ তৈরি হয়। এরই জেরে প্রতিহিংসাবশতঃ তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।
সাইফুল্লাহ তারেক আরও দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পরপরই শাবানা, তাঁর ছেলে সাগরসহ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় ফিরে এসেছে। এতে তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button