কিরে ইপ্তির বউয়ের সাথে তোর কিসের সম্পর্ক ? প্রথমে মারধর, অতঃপর গুলি!

# দৌলতপুরে যুবক গুলিবিদ্ধ #
# ৫ এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা
# পরকিয়া প্রেমের জের ধরে ইপ্তির ভাড়াকৃত সন্ত্রাসীদের দিয়ে যুবককে গুলি
# মামলা তদন্তনাধীন, আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে : ওসি
স্টাফ রিপোর্টার ঃ কিরে ‘ইপ্তির’ বউয়ের সাথে তোর কিসের সর্ম্পক? গুলিবিদ্ধ মহিদুল খাঁ’কে আসামীদের জিজ্ঞাসা ছলে হুমকি। চোখের পলক পড়তে না পড়তেই ভিকটিমকে মারধর শুরু করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা, অতঃপর গুলিবর্ষণ, সোজা ডানপাশে কোমরের উপরের অংশে গুলিবিদ্ধ হন উত্তর কাশিপুর এলাকার শওকত খাঁ’র পুত্র ট্যাংকলরী শ্রমিক মহিদুল খাঁ (২০), মামলার এজাহার সূত্রে এ তথ্য প্রতীয়মান হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ দ্বিতীয় গেটের পশ্চিম পাশে আহিল ভিলার সম্মুখে থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, খুলনার বিভিন্ন থানায় হত্যা প্রচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, চুরি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানামুখি অপরাধে ১৭টি মামলার এজাহারনামীয় আসামী মেহেদী হাসান মমি ওরফে মমি জমাদ্দারসহ সহযোগী সন্ত্রসীরা সশস্ত্র হামলায় মো. মহিদুল খাঁ নামের ট্যাংকলরী শ্রমিককে গুলিবিদ্ধের হত্যা প্রচেষ্টা চালায়। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫, তাং- ৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং)। মামলার এজাহারনামীয় আসামীরা হলেন – ১. মেহেদী হাসান মমি @ মমি জমাদ্দার, ২. সুজয় রায়, ৩. শাকিল, ৪. ইব্রাহিম মোল্লা ও ৫. রাকিব হাসানসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। ওই হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু. মোরাদুল ইসলাম। তিনি এ সংক্রান্তে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত এবং মামলার আসামী কাউকে ছাড়া দেওয়া হবে না বলেও হুশিয়ারী দেন এবং আসামীদের গ্রপ্তারে একাধীক টিম কাজ করছে বলেও জানান।
পুলিশ বলছে, মহিদুল খাঁ নামের যুবক হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ৫ এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে সংশিষ্ট থানায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-উপাত্ত, তথ্য-প্রযুক্তিসহ নানামুখি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ আরও জানায়, এজাহারে প্রতীয়মান হয়েছে পরকিয়া প্রেমের জেরে ইপ্তির ভাড়াকৃত সন্ত্রাসীরা মহিদুলকে গুলি করে। সন্ত্রাসী কর্তৃক এই গুলিবর্ষণ বা যুবক গুলিবিদ্ধের ঘটনার মূল কারণ হিসাবে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও পূর্ব শত্রুতার জের বা মাদক সংক্রান্ত বিষয়েও এঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ যুবক ট্যাংকলরী শ্রমিক, জ¦ালানী তেলের ডিপোতে গাড়ী পরিষ্কার করার কাজ করে। গত দুইমাস যাবত সে ঢাকায় একই কাজ করছে। খুলনায় ভাইয়ের বাড়িতে তিনি দু’দিন হলো এসেছেন। এজাহারনামীয় আসামীরা ভিকটিমের পূর্ব পরিচিত। ভিকটিম বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৬ টার দিকে তেলের ডিপোর গাড়ী পরিষ্কারের কাজের জন্য রওনা হন। ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন একটি দোতলা বসতবাড়ির সামনের পূর্ব পাশে রাস্তার উপর পৌঁছালে এজাহারনামীয় আসামীরা পথ আটকিয়ে ঘিরে ফেলে এবং আসামী শাকিল বলে ‘ইপ্তির বউয়ের সাথে কিসের সর্ম্পক’। ভিকটিম জানায়, তার স্ত্রীর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। ওই উত্তর প্রদানের পর আসামীরা আমাকে এলোপাতাড়ীভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ট্রেনলাইনের দিকে দিয়ে যায়। আমি দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আসামী মেহেদী হাসান মমি তার কোমরে থাকা পিস্তল বের করে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আসামীদের সাথে জোরাজুরি করে দৌঁড় দিয়ে পালানোর সময় মমি জমাদ্দার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি গুলি করে তখন তার ছোঁড়া ১টি গুলি আমার পেটের ডান পাশে লাগে এবং আমি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হই। অতঃপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজনসহ আমার ভাই মোঃ শহিদুল খাঁ ও পথচারী শেখ হেলাল আমার কাছে এগিয়ে আসে। গুলিবর্ষনের পর এজাহারনামীয় আসামীরা ট্রেন লাইন ধরে দ্রুত পালিয়ে যায়। অতঃপর আমার ভাই মো. শহিদুল খাঁ আমাকে জখম স্থানীয়দের সহয়তায় খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে আমি খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি।
ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম প্রবাহকে জানান, আমার ছেলে ঢাকায় থাকে। এই এলাকায় থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছিল বলে ওর বড় ভাই ঢাকা পাঠিয়ে দিছে। দুই দিন আগে ও ভাইয়ের বাড়ীতে আসে। বুধবার শুনি আমার মহিদুলকে কারা গুলি করেছে। আল্লাহ ওরে রেখে গেছে, আমার দোয়া ছিল ওর সাথে। যারা এ ঘটনার সাথে যার জড়িত তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি। মামলার স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিকটিম মহিদুল খাঁ প্রবাহকে জানান, আসামীরা আমাকে জিজ্ঞাসা করে ইপ্তির স্ত্রীর সাথে আমার সর্ম্পক আছে কিনা? না বললে, আসামীরা আমাকে শারিরীক ও অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। আমি দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় আসামী মমি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। অতঃপর আমি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পরিবার ও স্থানীয়দের সহয়তায় আমার বড় ভাই আমাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে দেয়। আমার সাথে আসামীদের কোনো শক্রতা নেই। ইতোমধ্যে আমার মা সুষ্ঠু বিচার পেতে বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
গুলিবিদ্ধ যুবকের ভাবী রোজিনা প্রবাহকে জানান, মহিদুল একই এলাকার উৎশৃঙ্খল বখাটে ছেলেদের সাথে মেলামেশা করে নেশা করাসহ খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছিল। যে কারনে ওই ভাই ওকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। সোমবার ও বাড়ীতে আসে। মঙ্গলবার রাতে ও বাইরে ছিল। বুধবার ও গুলিবিদ্ধ হয়, ভর্তি হয় খুমেক হাসপাতালে। আমরা মামলা করেছি, আমার জানা মতে কারো সাথে ওর সম্পর্ক খারাপ বা শক্রতা নেই। তবে কারা ওকে গুলি করলে? অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। গুলিবিদ্ধ মহিদুলের বন্ধু ট্যাংকলরী শ্রমিক ফজল প্রবাহকে জানান, আমার একসাথে কাজ করতাম মালা গ্যারেজ সম্মুখে। ও নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে, চুরি, ছিনতাই নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে যুক্ত হয়। যে কারনে ওর বড় ভাই ওকে ঢাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। ঢাকা আব্দুল্লাহপুর ও একই কাজ করে। সোমবার ও ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসে। প্রথম দিন রাতে ও আমার কাছে ঘুমায়। বুধবার ভোরে ও গুলিবিদ্ধ হয়। ওর সাথে কারো এমন শক্রতা নেই যে গুলি করার মতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএল কলেজ গেট সংলগ্ন ব্যবসায়ী প্রবাহকে জানান, বুধবার ভোরে নামাজ পড়ার পর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। গুলির শব্দ শুনিনাই। হয়তো ঘুমিয়ে ছিলাম এ কারনে নাও শুনতে পারি। সকালের আলো ফুটতেই দোকানের সামনে অনেক পুলিশ। পরে শুনলাম, কাশিপুরের এক যুবককে কারা যেন গুলি করেছে। ওই ঘটনার পর আমরা বেশ চিন্তিত ও শঙ্কিত। পরে শুনলাম সন্ত্রাসী মমি বাহিনীর সদস্যরা এ হত্যাপ্রচেষ্টার ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রাজ্জাক প্রবাহকে জানান, ভিকটিমের মা বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা মামলা করেছেন। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটির তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান করছি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু. মোরাদুল ইসলাম প্রবাহকে জানান, হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে ভিকটিমের মা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-উপাত্ত, তথ্য-প্রযুক্তিসহ নানামুখি বিষয়কে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে, আমাদের একাধীক টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত সস্ত্রাসী মেহেদী হাসান মমি গত ২৬ আগষ্ট সকালে দৌলতপুর থানাধীন দত্তবাড়ী এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র্যাব-৬ এর সদস্যরা (বর্তমানে এসআরবি)। সম্প্রতি সময়ে সন্ত্রাসী মমি জামিনে বেড়িয়ে ফের গঠিত বাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- সংগঠিত করছে। সুশীল সামাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও ভুক্তভোগীর প্রশ্ন? সন্ত্রাসী কর্মকা- ও একাধীক মামলার আসামীরা আইনের কোন ফাঁকফোঁকড় দিয়ে সহসা জামিন পাচ্ছে এবং জামিনে ফের বের হয়ে তারা পুনরায় নানামুখি অপরাধমূলক কর্মকা- সংগঠিত করছে? এদের খুটির জোর কোথায়, জানতে চাই সুশিল সমাজ।



