দিঘলিয়ায় জামায়াতের দুই নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট

# সেনহাটী ইউনিয়ন পরিষদে তালা, পথের বাজারে আ’লীগের দুই নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সেনহাটী ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে তালা লাগানো এবং পথের বাজারে আওয়ামী লীগের দুই নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে এসব হামলা চালায়। ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে লোকজন লোহার রড, লাঠিসোঁটা, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে পথের বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকে। পরে দলবদ্ধ হয়ে তারা সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের দিকে যায়। এ সময় দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে হামলাকারীরা চেয়ারম্যান জিয়া গাজীকে খুঁজতে থাকে। তাঁকে না পেয়ে পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে লোকজন পথের বাজারে ফিরে দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মঞ্জুর হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁর দোতলা দোকানের একটি অংশ ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। আমজাদ মোল্লার দাবি, তাঁর দোকানের পাশের নিজস্ব জমিতে এ নির্মাণকাজ চলছে। এরপর লোকজন পার্শ্ববর্তী পানিগাতী গ্রামে প্রবেশ করে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় বাড়ির নারী ও শিশুদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে দিঘলিয়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাসলিম হাসান টুটুলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় তার এক স্বজনকে ব্যাপক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাঁরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বারবার পুলিশের সহায়তা চেয়েও কার্যকর সাড়া মেলেনি বলে দাবি তাঁদের। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এসব ঘটনায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একের পর এক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দিঘলিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাড়াটে বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত দিঘলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুর রহমানের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে নির্বাচনের মাঠে দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে এ হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সেক্রেটারি তাসলিম আলম টুটুলের বাড়িতেও হামলা, ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির এক স্বজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহিলাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেছে। বাড়ির শিশুদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান জানান সংগঠনের সিদ্ধান্তক্রমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধরী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত সাংবাদিকদের জানান, সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের তালা ভেঙে কারা তালা লাগিয়েছে চৌকিদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা কেউ বলতে পারেনি। সিসি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



