পাইকগাছা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আইনজীবী সমিতির দুই নেতার কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি : আটক ২

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদকে চাঁদা দাবির পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
অপরদিকে, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘বি’ কোম্পানী প্রধান গ্রেনেড বাবুর পরিচয় দিয়ে পাইকগাছা থানা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জি এম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক জি এম আক্কাস আলীকে চাঁদার দাবিতে জীবন নাশের হুমকি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টার পর আসলাম সিকদার পরিচয়ে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদকে হুমকি দেয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে বলা হয়, ‘হয় অর্থ, নয় রক্ত’—এই দুটির যেকোনো একটি দিতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে আহসানারা বিনতে আহমেদ জানান, হুমকির ঘটনায় তিনি পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৬ অক্টোবর দুপুর ৩টা ৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা একটি মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হয়। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে আসলাম শিকদার পরিচয় দিয়ে সর্বহারা কমিউনিস্ট পার্টির লোক বলে দাবি করেন। এরপর তিনি টাকা দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দেন। টাকা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল কবীর বলেন, শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেই নয়; আগের দিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও চাঁদা চেয়ে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গ্রেনেড বাবুর পরিচয় দিয়ে তাদের দু’জনকে আলাদাভাবে হুমকি দেওয়া দেওয়া হয়। হুমকি প্রদানকারীদেরকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই চক্রের দুইজন সদস্যকে বাগেরহাট থেকে আটক করে খুলনায় আনা হচ্ছে। তবে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদানকারী আসলাম শিকদারকে আমরা নজরদারীর মধ্যে রেখেছি। সে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছিল বলে জানান ওসি।



