৩১ অক্টোবরের লংমার্চের সফলতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক মুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে : মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

# খুলনা মহানগরী জামায়াতের প্রস্তুতি সভা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেছেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ। এই লংমার্চ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি জনগণের হারানো অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দেশে সাম্য ও ইনসাফ কায়েম করার এক যুগান্তকারী পদযাত্রা। খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী এই লংমার্চকে সফল করতে যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে জনগণ আজ এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা চায়। এই লংমার্চ সেই কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের সূচনা করবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বরাবরই অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করা এই লংমার্চ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই লংমার্চের সফলতা কেবল আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক মুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে ইনশাআল্লাহ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারের পুকুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. আবু রুবাবা, তারবিয়াত বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন প্রমুখ। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেন, যেকোনো গণআন্দোলনের আসল শক্তি হলো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। খুলনা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিট পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বানÑআপনাদের আজ একযোগে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট: ঘরে বসে থাকার সময় আর নেই। আমাদের এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে এই লংমার্চে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীকে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। লংমার্চের প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ প্রতিটি অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিন।
সভায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা লংমার্চের প্রতিটি ক্ষেত্রের অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। যাতায়াত ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রচার কাজ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা কাফেলাগুলোর অভ্যর্থনার বিষয়ে আমাদের কোনো ঘাটতি রাখা চলবে না। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক টিমকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য যেকোনো দিক থেকে বাধার সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু আমাদের ধৈর্য, সাহসিকতা ও সুসংগঠিত উপস্থিতির মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হবে। আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতিধ্বনি তুলব।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসুন, আমরা আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে, ৩১ অক্টোবরের সকাল যেন খুলনা মহানগরীকে এক উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত করি। রাজপথের এই গণজোয়ারই প্রমাণ করবে যে দেশের মানুষ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানে না।



