শহীদের রক্তের প্রতিটি ফোটা আমাদের ঈমানি শক্তি ও লড়াই করার প্রেরণা জোগায় : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

২৮ অক্টোবরের ট্রাজেডিতে খুলনা মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কখনো কোনো শোষকের ভিত স্থায়ী হতে পারে না। শহীদের রক্তের প্রতিটি ফোটা আমাদের ঈমানি শক্তি ও লড়াই করার প্রেরণা জোগায়। কোনো জুলুম-নির্যাতনই হক ও ইনসাফের পথ থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে পারেনি, আর পারবেও না। ২৮ অক্টোবরের সেই পৈশাচিক ও নারকীয় হত্যাকা-ের বিচার নিশ্চিত করতে এবং সত্য, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা পালন করতে হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ২৮ অক্টোবরের নারকীয় হত্যাকা-ের বিচারের দাবিতে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগরী জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. আবু রুবাবা, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, অধ্যাপক জুলফিকার আলী, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মোনাওয়ার আনসারী, পেশাজীবী থানা আমীর জাফর সাদিক, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, খুলনা সদর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, দৌলতপুর থানা সেক্রেটারি আলমগীর মহিউদ্দিন, ব্যবসায়ী থানা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান স্বপন প্রমুখ।
মহানগরী আমীর বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভিশপ্ত ও কলঙ্কিত দিন। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র গোষ্ঠী পল্টনের রাজপথে যে পৈশাচিক নারকীয়তা চালিয়েছিল, তা বিশ্ববিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ‘লগি-বৈঠা’ নিয়ে হিংস্র হায়েনার মতো মেতে উঠেছিল নিরীহ মানুষের রক্তের হোলিখেলায়। সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করার পর লাশের ওপর লাফিয়ে পড়ে যে উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছিলÑতা কেবল মানবতা বিরোধীই ছিল না, ছিল সভ্যতার মুখে এক চরম চপেটাঘাত।
তিনি বলেন, সেদিন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেনি; বরং তা ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই দেশে ইসলামি নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার এবং গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার গভীর চক্রান্তের অংশ ছিল ২৮ অক্টোবরের তা-ব। ওই দিনের পৈশাচিকতা বিশ্বজুড়ে মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিল। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে প্রকাশ্যে দিবালোকে নিরীহ রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর এমন পাশবিক অত্যাচার কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন হতে পারে না; তা ছিল নিছকই এক সন্ত্রাসী হামলা ও নারকীয় হত্যাকা-।
মাহফুজুর রহমান বলেন, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তা-বের মাধ্যমেই বাংলাদেশে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় এই দেশে সূচনা হয়েছিল দীর্ঘকালের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- এবং স্বৈরাচারী শাসনের। যারা নিজেদেরকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা ও রক্ষক বলে দাবি করত, তাদের সেই ভ-ামির মুখোশ সেদিন রাজপথেই উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ দুই দশক পার হয়ে গেলেও লগি-বৈঠার মাধ্যমে সংঘটিত এই নারকীয় হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। দেশের প্রতিটি সচেতন ও বিচারকামী নাগরিকের প্রশ্নÑঅন ক্যামেরায় ধারণ করা সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন এই মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার আটকে রইল? কেন অপরাধীরা যুগের পর যুগ মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে? তিনি ২৮ অক্টোবরের সেই সকল বীর শহীদদের, যাদের রক্তে ভেজা রাজপথ আজও বিচারহীনতার আর্তনাদ করছে। আল্লাহ তাআলা তাদের শাহাদাতকে কবুল করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। একই সাথে, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।



