২০২৩ সালে ১৯৯৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য-মাদক আটক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রবাহ রিপোর্ট : গত এক বছরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১ হাজার ৯৯৬ কোটি ৯৯ লাখ ৭২৯ টাকার অবৈধ চোরাই পণ্য ও মাদকদ্রব্য আটক করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দিকনির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাপক তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানোর ফলে প্রায়শই বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য ও মাদকদ্রব্য আটক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিজিবির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৯৯৬ কোটি ৯৯ লাখ ৭২৯ টাকার চোরাই পণ্য এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চোরাই পণ্য ও মাদকদ্রব্য আটকের সময় গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৮১৭ জনের বিরুদ্ধে ৩৮ হাজার ৬৯২টি মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, আটক বা জব্দ মাদকের মধ্যে রয়েছে, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, ক্রিস্টাল মেথ আইস, এলএসডি, ইস্কাফ সিরাপ, বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বা ইনজেকশন ইত্যাদি। আর চোরাই পণ্যের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ, স্বর্ণ, রৌপ্য, বিভিন্ন প্রকার বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশু, কাঠ, কষ্টি পাথর, বিভিন্ন প্রকার তৈরি পোশাক ও কাপড়, চা-পাতা, বিভিন্ন প্রকার ফল, নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, যানবাহন, ইমিটেশন, প্রসাধনী সামগ্রী, আতশবাজী ইত্যাদি।
১৫ বছরে ট্রাফিক পুলিশের ৭৭৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায়: আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৫ বছরে দেশে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ৭৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জরিমানার মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার ৮০৭ টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করেছে। আরেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশের বিভিন্ন স্থানে জরাজীর্ণ থানাগুলোকে আধুনিক এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও আবাসিক সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানায় প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে: আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর আরেক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহে ৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট মোতায়েনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক গাড়ি পাম্প ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংগ্রহের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিদ্যমান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনগুলো আধুনিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনগুলোতে আধুনিক ও যুগোপযোগী গাড়ি, পাম্প ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংগ্রহের লক্ষ্যে মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অধীনে ১৩টি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট মোতায়েন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হলে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।


