কারফিউ শিথিলে সড়কে জানযট : সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ গতকাল নগরীতে কারফিউ শিথিলের পর শহরে যানজট লেগে যায় এবং এসময় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। শহরে বিভিন্ন সড়কের পয়েন্টে তৈরি হয় যানজট। এ দিকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশের সতর্ক পাহারা ছিল চোখে পড়ার মত। গতকাল সকাল দশটা হতে রাত্র আটটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল। যা চলমান কারফিউর মধ্যে সর্বোচ্চ সময় শিথিল ছিল। এতে করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, ভ্রাম্যমান হকার, সহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা তাদের পোশাক নিয়ে সড়কের পাশেহাক-ডকি ছেড়ে স্বাভাবিক অবস্থানে বেচা কেনা করতে দেখা গেছে। এছাড়া ও ব্যাংক পাড়াতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সব কিছু মিলিয়ে খুলনা নগরীতে স্বাভাবিক জনজীবন লক্ষ করা গেছে। গেল কয়েকদিনের কারফিউতে জনজীবন অনেকটা অজানা আতংক থাকলেও এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসছে। তবে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা যারা দৈনিক পারিশ্রমিক হিসেবে কাজ করছে তাদের অনেকে কাজ হচ্ছেনা। এ বিষয়ে কথা নির্মাণ শ্রমিক আজাদুল এর সাথে তিনি বলেন, হঠাৎ কাজ বন্ধ কারফিউর পর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে মহাজন বলেছে একটু স্বাভাবিক হলে কাজ হবে। এছাড়াও অন্য কোন জায়গায় নেই কাজ। তবে রিক্সা চালকরা বেশ যাত্রী পেয়েছেন সড়কে। গতকাল কথা হয় নগরীর শিববাড়ী মোড় এলাকায় রিক্সা চালক মো বাবুরাজ এর সাথে তিনি বলেন, গতকাল থেকে আজ সড়কে বেশ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে যাত্রী পেলে হয়তো উপার্জন ভাল হবে। এছাড়া বিকালের পর নগরীরর বিনোদন কেন্দ্র সাত নাম্বারঘাটসহ ময়ুরী আবাসিক এলাকায় বেশ দর্শনার্থীদের দেখা মেলে। অজানা এক আতংক থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক ভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘোরাফেরা করেছেন। এমনকি ফুচকা, চটপটির দোকান গুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। এ বিষয়ে কথা হয় দম্পতি হাবিব, তামান্নার সাথে তিনি বলেন, তিনি বলেন, আমার ছেলেটো কয়েকদিন যাবৎ বায়না ধরছে নৌকায় উঠবে। তবে গেল কয়েকদিন দেশের যে ভয়ানক পরিস্থিতি ছিল এ নিয়ে আতংকে ছিলাম। আজ অফিস ছুটির পর বের হলাম ছেলেকে নিয়ে তার বায়না মেটানোর জন্য। তবে খুলনায় তেমনটি সহিংসতা না হলেও আতংক ছিল। এখন দোয়া করি দ্রুত যেন সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। এছাড়া গেল কয়েকদিন যাবৎ হাসপাতালে জরুরী সেবা চালু থাকলেও রোগীদের আনাগোনা দেখা যায়নি। তবে গতকাল খুমেক হাসপাতাল, আবুনাসের হাসপাতালসহ সদর হসপাতালে বহির্বিভাগে ছিল রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে রাত্র আটটার পর ও প্রায় আধা ঘন্টার মত সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও সড়কের মুল পয়েন্ট গুলো জোড়া গেট, নিউ মার্কেট, শিববাড়ী মোড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ মোড়ে পুলিশ বেরিকেড দিয়ে দেয়। শহর থেকে বের হওয়ার জন্য সড়কের এক পাশের অর্ধেক সড়ক খোলা হয় তবে, এতে নগরীরর শিববাড়ী মোড়ে ফুজি কালারের সামনে তৈরি হয় যানজট। পাশাপাশি সড়কে অবস্থানরত অনেকে যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেটে তাদের গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে, নগরীর অলিগলির সড়কে স্বাভাবিক জনজীবন। চায়ের আড্ডা ও বেশ লোক জমায়েত।



