জাতীয় সংবাদ

আহলান সাহলান মাহে রমজান

প্রতিটি বিষয়ের একটি শিষ্টাচার আছে। রোজাদারের জন্য আছে কিছু শিষ্টাচার, যা তার রোজা পালন ও রমজানে করা ইবাদতগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর তাকে সাহায্য করে রমজানের সুফল ঘরে তুলতে। এমন কয়েকটি শিষ্টাচার তুলে ধরা হলো ঃ ১. নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদত করা : বিশুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর জন্য নিষ্ঠাই ইবাদতের প্রাণ।
রমজানের প্রতিটি ইবাদত আল্লাহর জন্যই করা প্রয়োজন। অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তা পরিহার করা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে, সালাত কায়েম করতে এবং জাকাত দিতে, এটাই যথাযথ দ্বিন।’ (সুরা : বাইয়িনাহ, আয়াত : ৫)
প্রতিটি ইবাদতের জন্য ইখলাস বা নিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।
রোজাও তার ব্যতিক্রম নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা পালন করবে তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৪)
২. সুন্নত পদ্ধতিতে ইবাদত করা : মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে দ্বিন ও শরিয়তের ব্যাখ্যাকার ও প্রচারক হিসেবে প্রেরণ করেন। তাই দ্বিন পালনে মহানবী (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করা এবং বিদআত পরিহার করা আবশ্যক।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে এমন আমল করবে, যার প্রতি আমাদের দ্বিনের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৫৯০)
৩. পুরোপুরি দ্বিন মেনে চলা : ইসলামের বিধানগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ফলে রমজান মাসের সুফল লাভ করতে হলে ব্যক্তিকে পুরোপুরি দ্বিন মেনে চলা আবশ্যক। কেননা পুরোপুরি দ্বিন মেনে না চললে, আল্লাহর কাছে বান্দার আত্মসমর্পণ পরিপূর্ণ হয় না। পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আল্লাহর পূর্ণ দয়াও আশা করা যায় না।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২০৮)
৪. পাপ পরিহার করা : রমজানের রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম শর্ত পাপ কাজ পরিহার করা। মুমিন সর্বপ্রকার পাপ ও অনাচার থেকে বিরত থাকলেই কেবল তার সিয়াম সাধনা সার্থক হবে। আর রোজা রেখেও যারা পাপ ত্যাগ করতে পারে না, হাদিসের ভাষায় তাদের অনাহারে থাকা অর্থহীন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অনেক রোজা পালনকারী আছে, যারা উপোস থাকা ছাড়া আর কিছুু পায় না। আর অনেক রাত জেগে নামাজ আদায়কারী আছে, যারা রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছু লাভ করে না।’ (সুনানে দারামি, হাদিস : ২৭২০)
অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘রোজা হলো ঢালস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোজা রাখবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। যদি তার সঙ্গে কেউ ঝগড়া-বিবাদ কিংবা মারামারিতে লিপ্ত হতে চায়, তবে তাকে বলে দেবে আমি রোজা পালনকারী।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫১) তিনি আরো কঠোর ভাষায় বলেছেন, ‘যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’
৫. সাহরি খাওয়া : রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া এবং তা বিলম্বে খাওয়া সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও। কেননা সাহরিতে বরকত আছে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯২৩)
৬. ইফতারে বিলম্ব না করা : ইফতারের শিষ্টাচার হলো তাতে বিলম্ব না করা। একাধিক হাদিসে এ বিষয়ে তাগিদ এসেছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মানুষ যত দিন পর্যন্ত সময় হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন কল্যাণের সঙ্গে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৫২)
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যত দিন মানুষ সময় হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন দ্বিন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ইফতারিতে দেরি করে।’
(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৩৫৫)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button