জাতীয় সংবাদ

তিন বছরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশ শতাংশে পৌঁছেছে

প্রবাহ রিপোর্ট : দেশে গত তিন বছরে দারিদ্র্যের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যের হারও বেড়ে হয়েছে ৯.৩৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ৫.৬ শতাংশ। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষ এখন ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন, যেখানে উচ্চবিত্তের আয়ের তুলনায় ব্যয় কম। একইসঙ্গে সামাজিক বৈষম্য ও হয়রানি বেড়েছে। চলমান সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষ ঝামেলা এড়াতে বেশি ঘুষ দিচ্ছেন। যেখানে আওয়ামী লীগের সময় এটি ছিল ২১.৫১ শতাংশ, তা এখন বেড়ে হয়েছে ৩০.৭৯ শতাংশ। জরিপে দেশের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের অংশগ্রহণ ছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি এবং শিক্ষায় বাড়তি ব্যয়। ৬৯.৫৯ শতাংশ পরিবার মূল্যবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিশুদের শিক্ষার মান ও ব্যয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ৬৪.৫৫ শতাংশ পরিবার, যার মধ্যে ৫২.০১ শতাংশ বিশেষভাবে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছে। এছাড়া ২৮.৭৬ শতাংশ পরিবার ভবিষ্যতে সন্তানের বিবাহ ব্যয় নিয়েও চিন্তিত। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আয়ের ঘাটতি উল্লেখ করেছে ৪০.২২ শতাংশ, আর মূলধনের অভাব দেখিয়েছে ২৮.৬৬ শতাংশ পরিবার। স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত উদ্বেগও প্রবল, ৫১.৬৫ শতাংশ পরিবার ওষুধের দাম, ৫০.৬৪ শতাংশ উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়, এবং ৪৮.৭ শতাংশ অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্টকে সমস্যা হিসেবে দেখেছে। সামাজিক সমস্যার মধ্যে মাদকাসক্তি (৫৫.৯৭ শতাংশ) এবং কিশোর অপরাধ (৫৪.৫২ শতাংশ) শীর্ষে। পারিবারিক ও পাড়াপড়শির বিরোধ উল্লেখ করেছে ৪৩.১৩ শতাংশ। রাজনৈতিক ও সুশাসন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে প্রায় অর্ধেক (৪৯.০৫ শতাংশ) পরিবার উদ্বিগ্ন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে। এছাড়া দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতাকেও যথাক্রমে ৩৭.১১ শতাংশ ও ৩৬.২৩ শতাংশ পরিবার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জরিপের ফলাফল স্পষ্ট করছে, মূল্যস্ফীতি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের দুর্বলতা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও মনোভাবকে প্রভাবিত করছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button