জাতীয় সংবাদ

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, কয়েকজন আহত

প্রবাহ রিপোর্ট : তিন দফা দাবিতে শাহবাগ মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মিছিল নিয়ে পৌঁছলে তাদের ওপর রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পুনরায় শাহবাগে ফিরে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন বারডেমে চিকিৎসা নেন। আরও কয়েকজনকে অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যান সহপাঠীরা। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে দুপুর ১টায় শাহবাগ মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি, প্রকৌশলী রোকনুজ্জামানকে হত্যার হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হাসান লিপু। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এদিকে আন্দোলনের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চারটি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগের মুখে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে পূর্বে মৎস্য ভবন, পশ্চিমে কাঁটাবন, দক্ষিণে টিএসসি ও উত্তরে ফার্মগেট মোড় দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। এসব গণপরিবহন চলছে বিকল্প সড়কে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে বা রিকশায় গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। কারণ শাহবাগের অনেক আগেই তাদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গুলিস্তান থেকে শিকড় পরিবহনে আসা রোগী আফসানা বেগম বলেন, আন্দোলনের কারণে আমাদের মৎস্য ভবন মোড়ে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলে গেছে হেয়ার রোড দিয়ে। আর এ দিকটায় রিকশাও আসতে রাজি হচ্ছে না। তাই অনেকটা পথ হেঁটে আসতে হয়েছে। শাহবাগের অবরোধের কারণে সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর ও কাকরাইলসহ প্রতিটি সড়কেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার দুপুরের পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগ ছাড়েন তারা। তাদের তিন দফা দাবি হলোÑ
১. ইঞ্জিনিয়ারিং নবম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল দশম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন-অ্যাক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইইবি-বিএইটিই অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে, নবম গ্রেডে ডিপ্লোমাধারীদের নিয়োগ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে তিন দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন নামে শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম। তাতে যোগ দেন বুয়েটসহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button