জাতীয় সংবাদ

মোবাইল ও ব্যাংক হিসাবের মধ্যে টাকা পাঠানো সহজ হচ্ছে

প্রবাহ রিপোর্ট : ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোর মধ্যে একই প্ল্যাটফর্মে আন্তঃপরিচালনযোগ্য লেনদেন চালু হচ্ছে। অর্থাৎ, এখন থেকে একজন গ্রাহক চাইলে বিকাশ থেকে নগদে, বা ব্যাংক হিসাব থেকে এমএফএসে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন। একইভাবে এমএফএস থেকেও ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করা যাবে – কোনও আলাদা সিস্টেমে না গিয়েই। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই নতুন ব্যবস্থায় লেনদেনের সময় প্রেরককে (যিনি টাকা পাঠাবেন) নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে। প্রাপককে (যিনি টাকা পাবেন) কোনও ফি দিতে হবে না। ফি’র হার নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে- ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.১৫ শতাংশ। পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.২০ শতাংশ এবং এমএফএস প্রোভাইডারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৮৫ শতাংশ। অবশ্য ফি’র সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টাকা পাঠানোর আগে গ্রাহককে কত ফি কাটা হবে, তা স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে এবং সেই অর্থ সরাসরি তার হিসাব থেকেই আদায় করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই আন্তঃপরিচালনযোগ্য ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান লেনদেন সীমা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ব্যাংক বা এমএফএসে যে সীমা নির্ধারিত আছে, সেটিই প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, একজন গ্রাহক যদি ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠান, তাহলে আগের মতোই নির্ধারিত ফি কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ডিজিটাল লেনদেনের বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন- ব্যাংক ও মোবাইল ওয়ালেটের মধ্যে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর সম্ভব হবে। নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে। লেনদেন হবে দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খানের সই করা এই সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনপিএসবি (ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ) অবকাঠামোর মাধ্যমে নতুন এই লেনদেন পদ্ধতি চালু করা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এখনও পর্যন্ত এমএফএস ও ব্যাংকের লেনদেন ছিল আলাদা সিস্টেমে। ফলে গ্রাহকদের এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে টাকা পাঠাতে সময় ও ঝামেলা পোহাতে হতো। নতুন এই ইন্টার-অপারেবল ব্যবস্থা চালু হলে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ সব প্ল্যাটফর্মের মধ্যে টাকা আদান-প্রদান হবে সরাসরি, যা গ্রাহক সুবিধা বহুগুণে বাড়াবে এবং নগদবিহীন অর্থনীতির পথে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button