ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবই হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রধান ভিত্তি

# পাকিস্তানের আকাশে মার্কিন সামরিক বিমান #
# লেবাননে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চাপ প্রয়োগ #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আসন্ন আলোচনায় ইরান তাদের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা পরিকল্পনা’কে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সাথে এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তাখত রাভানচি বলেন, ইরান সবসময়ই কূটনীতি ও সংলাপকে স্বাগত জানায়, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না যা আক্রমণকারী শত্রুকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা (ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। বৈঠকে গত ৪০ দিনের সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেনেভায় যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাপুরুষোচিতভাবে সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে শহীদ করেছে। তিনি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অসম যুদ্ধে ইরান দুটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ও বিশাল বিশ্ববাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরোধ এবং জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য আক্রমণকারীদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। ১০ দফা পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ: ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই ১০ দফা পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি হলো:
১. অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
২. ইরানের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
৩. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
৪. ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালানোর আইনি গ্যারান্টি। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সময়ের মধ্যেই ইসলামাবাদে উভয় পক্ষ টেবিলে বসতে যাচ্ছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং এটি তাদের কূটনৈতিক লড়াইয়ের একটি অংশ মাত্র। তাখত রাভানচি প্রতিবেশী দেশগুলোর আশ্বস্ত করে বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কেবল তাদের ভূখ-ে থাকা শত্রুঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে, যা কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি নয়। তিনি ইরানবিরোধী আগ্রাসনের নিন্দা জানানো দেশগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং একইসাথে কিছু ইউরোপীয় দেশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গত ৮ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, এই সংঘাত ইরানের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয় বয়ে এনেছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার শর্ত মানতে বাধ্য করেছে। অপরদিকে লেবাননে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিতে ইরান জানায় তারা ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোন কথা বলবেন না যতক্ষণ না লেবাননে হামলা বন্ধ করে ইসরাইল। এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ ইউটকফ ও জার্ড কুশনার ইসলামাবাদে যাচ্ছে বলে ইসলামাবাদের আকাশে মার্কিন সামরিক বিমান টহল অব্যহত রেখেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি।



