ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রবাহ রিপোর্ট : রাজধানীর শ্যামলীতে বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনকারী ডা. কামরুল ইসলামের সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলোজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে আসামি করে মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৭-৮ জনকে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ‘মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর এলাকার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়।’
‘আমার স্ত্রী আসামিদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উশৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি।’
‘পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামি মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে।’
‘এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব আমরা’ মর্মে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।’
‘একপর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ওই ঘটনার বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে তারা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনেন।’
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের শেরেবাংলা নগর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।’



