জাতীয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-২১ ঘন্টার রূদ্ধশ্বাস আলোচনা ব্যর্থ!

নেপথ্যে যে ছয় কারণ
আলোচনা ব্যর্থ হলেও উপসাগরীয় যুদ্ধবিরতি আপাতত টিকে আছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা উচিত : পাকিস্তান

প্রবাহ ডেস্ক : ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ছয়টি মূল ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্যের কারণে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করে কুয়েতভিত্তিক সংবাদ্মাধ্যম আল-জারিদা।
সূত্রটি জানায়, আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ, এই ছয়টি বিষয়কে কেন্দ্র করে মূল বিরোধ তৈরি হয়।
প্রথমত, লেবাননে হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে তেহরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইসরায়েলসহ তৃতীয় পক্ষের বিষয়ে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারবে না এবং বিষয়টি আলাদা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, জব্দকৃত ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তেহরান দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুললেও ওয়াশিংটন তা বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়।
তৃতীয়ত, ইরানের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেয়। তবে তেহরান এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে প্রত্যাখ্যান করে।
চতুর্থত, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির পরিসর সীমিত করার মার্কিন প্রস্তাবও ইরান প্রত্যাখ্যান করে, এটিকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়।
পঞ্চমত, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিলেও ইরান এটিকে নিজের সার্বভৌম অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে।
ষষ্ঠত, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষতির জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। বরং ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দেয় তারা।
সব মিলিয়ে এসব মৌলিক মতবিরোধের কারণে ইসলামাবাদের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবির’ কারণে ভেস্তে গেছে বলে রোববার জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আইআরআইবি জানায়, ‘ইরানি জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিনিধি দল টানা ২১ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়।’
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পর রোববার তিনি বলেন, তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।
ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়,ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক অঙ্গীকার’ চাইছিল—যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব-এর পর দুই পক্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকেও এমন অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য সময় দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখা হবে।
আলোচনার আয়োজক পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে এবং উভয় পক্ষকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’র কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পরে বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পর এক বৈঠকেই চুক্তি হবে—এমন আশা কেউই করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে।
আলোচনায় দুই পক্ষই কঠোর অবস্থান নিয়ে অংশ নেয়। হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে মার্কিন পদক্ষেপ নিয়েও চাপ তৈরি হয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়।
প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে ভ্যান্স বলেন, এখনো কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি।
‘আমরা একটি সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি—এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়,’ বলেন তিনি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ ভবিষ্যতেও সংলাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা জরুরি।
আলোচনায় ইরানের ৭০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মার্কিন দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
চুক্তির পথে প্রধান বাধা : যুদ্ধ শেষের যেকোনো চুক্তির জন্য ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, ইসলামাবাদে এসব বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াও বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালীতে প্রবেশ করে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে এবং সতর্ক করে দিয়েছে, এমন কিছু হলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ কমান্ড জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা কেবল ‘নির্দিষ্ট শর্তে বেসামরিক জাহাজের’ জন্য প্রযোজ্য।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিজেরা ব্যবহার না করলেও প্রণালী খুলে দেব, কারণ অনেক দেশ এটি ব্যবহার করে—তারা হয় ভীত, নয় দুর্বল, নয়তো কৃপণ।’
লেবানন ইস্যুতে জটিলতা : গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা সবসময়ই ‘ব্যর্থতা ও ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে চিহ্নিত।
অন্যদিকে ভ্যান্স বলেন, ইরান সদিচ্ছা দেখালে যুক্তরাষ্ট্রও আন্তরিকভাবে আলোচনা করবে, তবে ‘খেলতে চাইলে’ তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। ইসরাইল বলছে, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।
ইসরাইল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পৃথক আলোচনা করবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এমন একটি শান্তিচুক্তি চান, যা ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে’।
তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বরং বৈরুতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে।
আলোচনা ব্যর্থ হলেও উপসাগরীয় যুদ্ধবিরতি আপাতত টিকে আছে : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র রোববার কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আবার যুদ্ধ শুরু হয়নি এবং নাজুক যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে এমন আশায় রয়েছে অঞ্চলটি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার পর পাকিস্তান ত্যাগকালে বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি খুব সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, তার প্রতিনিধিদল ‘গঠনমূলক প্রস্তাব’ দিয়েছিল, তবে এই দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচল ও তেল-গ্যাস স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আবার চালু হয়েছে। কাতারও উপসাগরীয় নৌ-চলাচলে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আলোচনার আয়োজক পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সংলাপ চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে এবং উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
বিরোধের প্রধান বিষয়গুলো : মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা যায়, মতবিরোধের অন্যতম কারণ ছিল হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের দাবি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে তাদের অনীহা।
ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়া হতাশাজনক হলেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে তেহরান পাল্টা জবাব দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেয়।
দুই পক্ষই কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় বসে। হরমুজ প্রণালী, যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, তা নিয়েও চাপ বাড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মধ্যেই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভ করেছে।
তিনি বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ আমরা জিতেছি।’
অবিশ্বাস ও চাপের রাজনীতি : ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক জুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র অবিশ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
ইরান ফেব্রুয়ারিতে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় ছিল, এমন সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালায়। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
যুদ্ধ শেষের জন্য ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান বন্ধ করা। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াও বড় ইস্যু।
যুদ্ধ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রণালীতে মাইন অপসারণে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে এবং সতর্ক করেছে, এমন কিছু হলে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
লেবানন ইস্যুতে জটিলতা : সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। ইসরাইল বলছে, যুদ্ধবিরতি সেখানে প্রযোজ্য নয়। হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে তারা বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।
ইসরাইল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আলোচনা করবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এমন একটি শান্তিচুক্তি চান যা ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে’।
তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি না করে ইসরাইল বরং বৈরুতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা উচিত, পাকিস্তান : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ দুটির প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। রোববার এক বক্তব্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি মেনে চলা এখন অত্যন্ত জরুরি।’
পাকিস্তান এই আলোচনার আয়োজক এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজতর করতে পাকিস্তান তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button