শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে হত্যার জন্য ভিন রাজ্য থেকে এসেছিল শুটার

প্রবাহ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে হত্যার জন্য ভিন রাজ্য থেকে এসেছিল শার্প শুটার। তাদের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাচ্ছে সিআইডির একটি দল।
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় তার গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মোটরবাইকে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। গাড়ির মধ্যেই চন্দ্রনাথের পাশাপাশি গুরুতর জখম হোন গাড়িচালক ও আরো একজন সহযোগী।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে। হামলার সময় গাড়ির সামনের আসনে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ ও তার গাড়ির চালক। পিছনের আসনে ছিলেন মিন্টু নামে এক ব্যক্তি, যিনি চন্দ্রনাথ রথের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
এই হত্যার তদন্তের জন্য এসটিএফ, সিআইডি এবং আইবি কে নিয়ে গড়া হয়েছে সিট। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চন্দ্রনাথ খুনে ভিন রাজ্য থেকে এসেছিল শার্প শুটার। তাদের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাচ্ছে সি আই ডির একটি দল। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন সিআইডির কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরের সিসিটিভি পরীক্ষা করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা মনে করছেন আততায়ীরা বিমানে পালাতে পারে। আর তাই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি অনুসরণ করছিল আততায়ীরা। তার প্রতিদিনের কার্যকলাপের উপর রাখা হয়েছিল নজর। তাকে হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চারটি বাইকে সাত জন দুষ্কৃতকারী এলাকা ছেড়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশ তদন্ত নেমে চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য পায়। খুনের ঘটনায় একটি চার চাকার নিশান মাইক্রো ব্যবহার করার কারণে চন্দ্রনাথের গাড়ির স্পিড ধীর ছিল। জাতীয় সড়ক ছেড়ে দোহারিয়ার রাস্তায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি ঢুকে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর আবাসনের কাছাকাছি পৌঁছতেই চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা আটকে দাঁড়়িয়ে যায় মাইক্রোটি। ফলে গাড়ি থামাতে হয় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি চালককে। এরপরই গাড়ির দুই দিক থেকে আসে দুটি মোটরবাইক। শুরু হয় গুলি চালানো। চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তাতে যে গর্ত তৈরি হয়, সেখান থেকে একের পর এক গুলি করতে শুরু করে হামলকারীরা। মোট তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের। গুলিতে আহত হন চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়াও।
রাতে সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছিলেন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতকদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যদিও তাতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পর খুনে ব্যবহৃত আরও একটি মোটর বাইক উদ্ধার করা হয় যেটি বিমানবন্দরের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। গাড়িগুলোর মালিক গাড়ি বিক্রি করার জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। অনুমান করা হচ্ছে, সেখান থেকেই তাদের নম্বর কপি করে ভুয়া প্লেট বানিয়ে নিয়েছিল আততায়ীরা।
চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনায় ২০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করার পরে এই মুহূর্তে পুলিশ সেগুলো ম্যাপিং করার কাজ করছে।
এই হত্যাকা- প্রসঙ্গে তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান শুভেন্দু । পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়ে চিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মহা-জঙ্গলরাজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। ‘
বৃহস্পতিবার বারাসত হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমার ব্যক্তিগত লস। আমি যদি বিজেপি না করতাম, আমি যদি বিরোধী দলনেতা না হতাম, আমি যদি ভবানীপুরে না জিততাম, ওর সঙ্গে এটা হত না।”
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “বিরোধী দলনেতার সরকারি এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে গুলি চালানো হয়েছে। ১০ বছর তিনি এয়ারফোর্সে কাজ করেছেন। এখন আমার মনে হচ্ছে, বাড়ির লোক হয়ত ভাবতেই পারেন, আমার সহায়ক না হতেন, আমি যদি ভবানীপুরে না জিততাম, তাহলে ৩৮ বছরের যুবককে এভাবে চলে যেতে হত না। তার অপরাধ ছিল, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক।”


