যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের তেহরানে একটি ভবনের গায়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি গ্রাফিক ডিজাইনের বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে পথচারীরা ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাব পাঠানো হয়েছে। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতারের একটি গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আইআরএনএ জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের জবাবের মূল গুরুত্ব ছিল যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। গত সপ্তাহে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের পর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও রোববার উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, এক মাসের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অঞ্চলটি এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এদিকে কাতার এনার্জি পরিচালিত এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল খারাইতিয়াত’ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপার। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কাতারি এলএনজি বহনকারী জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করল। সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হওয়ার পর আংশিক স্বস্তি দিতে এই জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেয় ইরান। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির লক্ষ্যও ছিল এতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। চীন সফরের আগে যুদ্ধ বন্ধের চাপে ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর সামনে রেখে যুদ্ধ বন্ধে চাপ বাড়ছে। কারণ, চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা ও কাতারি গ্যাসবাহী জাহাজের যাত্রা সত্ত্বেও আঞ্চলিক অর্থনীতি ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই দিন কাতার অভিযোগ করেছে, আবুধাবি থেকে আসা একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে বর্তমানে ইরান কার্যত জাহাজ চলাচল সীমিত করে রেখেছে, যা সংঘাতের অন্যতম প্রধান চাপের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আল থানি আরাঘচিকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীকে ‘চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করলে সংকট আরও গভীর হবে। তিনি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এদিকে ইরানের আইনপ্রণেতারা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি বিল তৈরির কাজ করছেন। এতে ‘শত্রু রাষ্ট্রের’ জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার ধারা থাকতে পারে। গত কয়েক দিনে প্রণালী এবং আশপাশের এলাকায় যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা দেখা গেছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে হামলার শিকার হয় এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন নৌযানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।



