জাতীয় সংবাদ

ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি, কোটি টাকার ভুয়া চালান জমা দিয়ে জামিন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এক ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনে এক মামলায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে এক কোটি টাকার চালান। আর সেই চালান দেখিয়েই বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আরিফুল ইসলামের আদালত থেকে আপিলের শর্তে নিয়েছেন জামিন। জামিন নিয়ে আসামি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন। এরপর বিকেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব শাখা থেকে অনলাইনে চালানটি চেক করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আইনজীবীকে আসামিসহ শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলার আসামির নাম মো. মনির হোসেন। তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন নোয়াপাড়া (মেম্বার বাড়ি) এলাকার আলী আজমের ছেলে। মামলায় যার পরিচয় দেওয়া হয়েছে মেসার্স সখিনা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকসের স্বত্বাধিকারী। এই মামলার বাদী এগ্রোটেকস ফিডস লিমিটেড। যার হেড অফিস উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণিতে অবস্থিত। বাদী এই আসামির কাছে দুই কোটি টাকা পাওনা দাবি করে ২০১৮ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি ২০১৯ সালে বিচারের জন্য ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে। দীর্ঘ ৬ বছর পর ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তার বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকা অর্থদ- ও এক বছরের কারাদ- দেন আদালত। সেই মামলায় আব্দুল হালিম নামে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে চেকের অঙ্কের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি টাকা জমা দেওয়ার শর্তে আসামি জামিন চান। আদালত সকালে টাকা জমা দেওয়ার অনুমতি দেন। এরপর সিল-স্বাক্ষর নিয়ে তৈরি করেন এক কোটি টাকার চালান। সেই চালানেই সিএমএম আদালত-সংলগ্ন সোনালী ব্যাংক ডিসি হল শাখায় টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণসংক্রান্ত ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর নিয়ে আসেন। টাকা জমার সেই চালান দেখিয়েই জামিন নেন আসামি। মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চালানটি অনলাইনে না পেয়ে আমরা সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করি। সোনালী ব্যাংকের ডিসি হল শাখা থেকে নিশ্চিত করেছে যে, ওই শাখায় আজ এক কোটি টাকার কোনো চালান জমাই হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হালিম বাংলানিউজকে বলেন, কোর্ট থেকে পারমিশন নিয়ে চালান আসামিপক্ষকে বুঝিয়ে দিই। তারাই ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে চালানটি আমাকে ফের দেন। এখন ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত জানতে আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আসামিসহ আগামী ২৩ মে আদালতে আসতে বলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য শোনার পর আসল ঘটনা জানা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button