গরু-হত্যার মিথ্যা অভিযোগ : গুজরাটে পুলিশের নির্যাতনে মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের আহমেদাবাদে পুলিশ হেফাজতে এক প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম জহির শেখ (৬৪)। তিনি আহমেদাবাদের জুহাপুরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ মে গো-হত্যার একটি মামলায় আহমেদাবাদের ভেজালপুর থানার পুলিশ জহির শেখকে আটক করে। পরিবারের দাবি, গো-হত্যার এই মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো। জহির শেখের ছেলে তৌফিক জানান, হাসপাতালে তার বাবার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। মৃত্যুর আগে তৌফিক তার বাবার একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। ওই ভিডিওতে জহির শেখ অভিযোগ করেন যে, পুলিশ হেফাজতে তাকে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয়েছে, তার দাড়ি ধরে টানা হয়েছে এবং গোপন অঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে। এমনকি পুলিশ তার কাছে টাকা দাবি করেছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে একটি সন্দেহজনক তরল পানীয় বাধ্য করে খাওয়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। জহির শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জুহাপুরা এলাকার বাসিন্দারা এবং নিহতের স্বজনরা ভেজালপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এই ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং বিধায়ক জিগ্নেশ মেভানি এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “অভিযোগ উঠেছে যে পুলিশ হেফাজতে ওই ব্যক্তির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এর আগেও এই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।” নিহতের স্বজন মাওলানা মোহাম্মদ বলেন, “উদ্ধার হওয়া মাংসটি আদৌ গরুর মাংস কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার আগেই আমার চাচাকে এমনভাবে নির্যাতন করা হলো যে তিনি মারাই গেলেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মরদেহ গ্রহণ করব না।” অন্যদিকে পুলিশ এই নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, থানায় থাকার সময় জহির শেখের স্ত্রী তার জন্য যে ওষুধ এনেছিলেন, তা খাওয়ার পরই তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। তাদের দাবি, জহির শেখ নিজেই নিজের ক্ষতি করার জন্য অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবার পুলিশের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এবং ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে জহির শেখের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। একই সাথে তারা একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-নেতৃত্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজরাটে কঠোর গো-রক্ষা আইনের অপব্যবহার এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর পুলিশি হয়রানির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


