সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা, শ্রমিক নেতাদের ক্ষোভ

# সিপিডি বাজেট সংলাপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, শ্রমিক নেতা ও অর্থনীতিবিদরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বাজেটকে ‘ব্যবসাবান্ধব’ বললেও শ্রমিক নেতারা বলছেন, এতে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের কোনো প্রতিফলন নেই। অন্যদিকে, বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি স্থানীয় হোটেলে সংস্থাটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট ডায়ালগ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি এনামুল হক বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ইউনিটের জন্য ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে কন্টিনিউয়াস বন্ড সুবিধা প্রদান আমাদের খাতের জন্য বড় অর্জন। বন্ড নিয়ে সাউথ ও নর্থে দৌড়াদৌড়ি থেকে আমরা মুক্তি পাব। তিনি উল্লেখ করেন, উৎসে কর কর্তনকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা এবং সোলার বিদ্যুৎ খাতের উপকরণ আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর সুবিধা একটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। তবে নগদ সহায়তার ওপর ৫ শতাংশ কর অব্যাহত রাখা এবং রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ না করায় কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শ্রমিকদের জন্য কিছু নেই: ট্রেড ইউনিয়ন ঃ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ বাজেটের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই বাজেটে শ্রমিকদের জীবনের গুণগত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। যে শ্রমিকরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তিনি শ্রমিকদের জন্য ‘রেশনিং প্রথা’ চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে এই বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব। প্রতিটি সরকার রেশনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে দেশের জন্য ক্ষতিকর আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান তিনি। বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ: সিপিডি ঃ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাজেটের কাঠামোগত দুর্বলতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সুশাসন নিশ্চিত ও লিকেজ বন্ধ করা না গেলে বাজেটের বড় অংশই অপচয় হবে। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ স্থবির হয়ে আছে। এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বরাদ্দের মধ্যে বড় অসংগতি। বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থর গতি এবং ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের অত্যধিক ঋণের কারণে বেকারত্ব সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



