জাতীয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি মানুষ

সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা

প্রবাহ রিপোর্ট : জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জুলাই আন্দোলনে কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। এ আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।” রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট আলোচনার ১৭তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “একক কোনো ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আমরা স্বীকার করি না। এই আন্দোলন ছিল জনগণের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ।”
এর আগে জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিরোধী দলীয় নেতার পূর্ববর্তী এক বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এবং সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট নিয়ে উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।”
এ বিষয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সময়কালও সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আমি যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, সেটি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের। কিন্তু, বাস্তব পরিবর্তন এসেছে আগস্টের ৫ তারিখের পর।”
তিনি আরো বলেন, “২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব কাঠামো নতুনভাবে বিকশিত হয়েছে। সেই সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকৃতি দিই।”
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আমরা সবাই অন্তর থেকে এই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষদের সম্মান করি। তাদের জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে। তরুণসমাজ এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল।”
তিনি উল্লেখ করেন, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের একটি মন্তব্য প্রসঙ্গেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যেখানে আন্দোলনের এক ব্যক্তিকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তখনই প্রতিবাদ করেছিলাম। কারণ, এই আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কৃতিত্ব হিসেবে পুরো আন্দোলনকে সীমাবদ্ধ করা সঠিক নয়। বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা, অংশগ্রহণ ও প্রতিবাদই এই আন্দোলনের ভিত্তি।”
সংসদে দেওয়া তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের মধ্যেও রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে উত্তাপ ছড়ায় সংসদ কক্ষে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button