জাতীয় সংবাদ

পরীক্ষা কেন দুই-একদিন পেছানো গেল না : শিক্ষামন্ত্রীকে রুমিন ফারহানা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ এইচএসসির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান বিষয় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও কেন তা দুই-একদিন পেছানো হলো না, তা জানতে চেয়ে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মতামত বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান। সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাটি কিছুটা পেছানোর জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে ঢাকায় আন্দোলনও হয়েছে। এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেটার ওপর আগামীতে একটা ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করে। আর পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এই দাবি বিবেচনার কী সমস্যা ছিল, কেন পরীক্ষাটি অন্তত একদিন বা দুইদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি। রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার কারণে ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছিল এবং ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথেও যোগাযোগ রাখা হয়। তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে জানানোর পর, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠে পানি জমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ডিসির সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাময়িক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের কাপড় ভিজে গেলে বিকল্প কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং তাদের পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধ বা বিলম্বে নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া ছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়াটি দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে মাত্র চার মাস, ফলে এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি। তবুও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের যে দাবি উঠেছে, তা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ বা কৃষি অনুষদ গড়ে তোলা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button